প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানি চুক্তি ইস্যুতে আলোচনার জন্য কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিসাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সম্প্রতি ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ নতুন চুক্তি চায়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্যতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে সমানভাবে পানিবণ্টন হবে। তিনি বলেন, নতুন চুক্তিতে এই ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ রাখার মধ্য দিয়ে দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
এ বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি কী? এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকা সফরের গুজবের সত্যতা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়সওয়াল বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীসহ সব যৌথ নদীর বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন রয়েছে এবং কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।’
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকা সফরের খবরের বিষয়ে মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য বা হালনাগাদ তথ্য নেই।
এ দিন তুরস্কের রাষ্ট্রপতি এরদোয়ানের ফের কাশ্মীর ইস্যুটি জাতিসংঘে তুলে আনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর বলেন, ‘ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং এটি ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বাহিরের কারও কোনো কথা বলার অধিকার বা এখতিয়ার নেই।’
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথ বিবৃতি এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে গাজা ও দখলকরা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন না করার কথা বলা হয়েছে। ভারত কি দ্বিপক্ষীয়ভাবে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কথা বলেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারত তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’-এর পক্ষেই অটল রয়েছে।’
পারস্য উপসাগরে কতগুলো ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজ রয়েছে এবং সেখানে কতজন ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তথ্য দিয়ে জানান, পারস্য উপসাগরে (হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে) ভারতের ছয়টি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ভারতের দিকে আসা ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। মোট ১২টি জাহাজ।
তিনি আরও জানান, এই জাহাজগুলোতে ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক আছেন। এছাড়া সমগ্র অঞ্চলে অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো নিয়মিত তাদের নিরাপত্তা নজরদারিতে রাখছে।
সম্প্রতি হাঙ্গেরীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, ভারত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় তুরস্কের সদস্যপদের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ভারত ও চীনের মধ্যে মধ্যস্থতা করা একটি ‘অকৃতজ্ঞ কাজ’; তবে দুই দেশ নিজেরাই সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান স্পষ্ট করেন রণধীর।
তিনি বলেন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার যেকোনো নতুন সদস্যপদের বিষয়টি সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের বৈঠকে দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ভারত-চীন সম্পর্ক অগ্রসর হচ্ছে।