প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মানরা গ্রামের শাহরিয়ার হোসেন (শিহাব) এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের খবর পরিবারে আনন্দ বয়ে আনতে পারেনি। ফল প্রকাশের মাত্র দুই দিন আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১৭ বছর বয়সী এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
শাহরিয়ার হোসেন মানরা গ্রামের মো. তোফাজ্জল হোসেনের একমাত্র ছেলে। চাকরি ও ব্যবসার কারণে তোফাজ্জল হোসেন পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। শাহরিয়ার ঢাকা বিমানবন্দর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তার দুটি ছোট বোন রয়েছে।
চাচার বিয়েতে অংশ নিতে গত বৃহস্পতিবার পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি মানরায় আসে শাহরিয়ার। শনিবার দুপুরে গোসলের পর বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে দিতে যায় সে। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাদের কার্নিশে কাপড় দেওয়ার সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনে টানানো রঙিন বাতির বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় শাহরিয়ার।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। পরে স্বজনেরা তাকে দ্রুত কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা ছিল, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় শাহরিয়ার ভালো ফল করবে। ফল প্রকাশের আগেই সেই প্রত্যাশা সত্যি হলেও তা জানার সুযোগ হলো না তার। ১১ আগস্ট ফল প্রকাশের কথা থাকলেও তার দুই দিন আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় সে।
শাহরিয়ারের চাচা জিয়াউল হক বলেন, “শাহরিয়ার খুব মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। সে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাবে—এমন প্রত্যাশা পরিবারের সবারই ছিল। অন্য শিক্ষার্থীদের মতো তারও ফল প্রকাশের পর আনন্দ করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তাকে হারাতে হলো।”
শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে শাহরিয়ারের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তার মা–বাবা গভীর শোকে আছেন।
শাহরিয়ারের এসএসসির ফলাফল এখন পরিবারের কাছে আনন্দের নয়, বরং গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে। যে ফল জানার অপেক্ষায় ছিল পুরো পরিবার, সেই ফল প্রকাশের আগেই তাদের প্রিয় সন্তানকে হারানোর শোক নেমে এসেছে পরিবারটিতে।