• ঢাকা বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩০ ভাদ্র ১৪২৯

এবার শাশুড়ির জন্য পাত্র খুঁজছেন পুত্রবধূ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২, ০৮:৪৬ পিএম

এবার শাশুড়ির জন্য পাত্র খুঁজছেন পুত্রবধূ

আদালত প্রতিবেদক

এবার শাশুড়ির জন্য পাত্র চেয়ে একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়েছেন ডালিয়া আক্তার নামের এক পুত্রবধূ। শাশুড়ির বয়স ৫১ বছর। তারা পুরান ঢাকার বাসিন্দা। শাশুড়ির একাকিত্বের বিষয়টি চিন্তা করে তার স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেই এই পোস্ট দিয়েছেন বলে জানান ওই পুত্রবধূ। তবে শুরুতে বিয়ের জন্য রাজি না থাকলেও পরে স্বামী-স্ত্রী মিলে রাজি করান শাশুড়িকে।

সম্প্রতি পাত্র-পাত্রী খুঁজতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফেসবুক গ্রুপ ‘বিসিসিবি মেট্রিমনিয়াল: হেভেনলি ম্যাচ’। গ্রুপটিতে অনেককেই দেখা যায় নিজের জন্য, ভাইবোনের জন্য, ছেলেমেয়ের বা অন্য স্বজনের জন্য পোস্ট দিতে।

ফেসবুক গ্রুপটিতে ওই পুত্রবধূ লেখেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই খেয়াল করছিলাম আম্মু (শাশুড়ি মা) একটু চুপচাপ থাকেন। ২০০৯ সাল থেকে আমার শ্বশুরের কাছ থেকে তিনি আলাদা। ওনাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। আম্মুর সব কিছুই ছিল ছেলেকেন্দ্রিক। ছেলে ছাড়া অন্য কিছু কখনই ভাবেননি। তার জীবনের অনেকটা সময় ছেলের কথা ভাবতে গিয়ে স্যাক্রিফাইস করেছেন। আমরা চাই না উনি আরও স্যাক্রিফাইস করুক।’

পাত্রের ধরন জানিয়ে ওই পুত্রবধূ লেখেন, ‘পাত্রকে অবশ্যই সামাজিক, মিশুক প্রকৃতির একজন মানুষ হতে হবে। যার সঙ্গে মন খুলে কথা বলা যাবে, বিশ্বাস করা যাবে, আমার শাশুড়িকে বুঝবে আর ভুলগুলো শুধরে দেবে। নিজেকে বুঝতে দেবে। পারিবারিক অবস্থান মধ্যবিত্ত হলেও সমস্যা নেই, বেশি ধনী হলেও সমস্যা নেই। তবে সরকারি চাকরি হলে অথবা বিদেশি সিটিজেন হলে আরও ভালো হয়।’

ওই তরুণী বলেন, ‘এরইমধ্যে অনেকেই যোগাযোগ করেছেন। তারমধ্যে দুজনকে ভালো লেগেছে। সব কিছু ঠিকঠাক না হওয়া পর্যন্ত নাম পরিচয় সামনে আনতে চাই না। তবে এই উদ্যোগ সফল হলে আমি নিজেই সবাইকে জানাব।

যার জন্য পাত্র খোঁজা হচ্ছে, সেই নারীর সঙ্গেও কথা হলে তিনি বলেন, ‘বউ যখন আমার ছেলের গার্লফ্রেন্ড ছিল, তখন থেকেই বলত, আম্মু আপনাকে বিয়ে দেব। আমিও হাসতাম। ছেলেকে বিয়ে করিয়েছি এক বছর। এর মাঝেই ও এই উদ্যোগ নিয়েছে। আমিও বলেছি আচ্ছা বিয়ে দাও। তোমরা যেটা ভালো মনে করো সেটা হবে।’

 

পোস্টের মধ্যে প্রত্যেকটি কমেন্টেই এই উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। জিনিয়া রহমান পাপড়ি নামে একজন লিখেন, ‘আমরা যে আস্তে আস্তে সংকীর্ণ মন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি, সেটা দেখে ভালো লাগছে। দোয়া করি, আন্টির বাকি জীবনটা সুন্দরভাবে কাটানোর জন্য তার মতই একজন সঙ্গী মিলুক।

‘আমি আমার মাকে তো কোনোভাবেই রাজি করাতে পারলাম না বিয়ের জন্য। এই বয়সে একা একা থাকতে থাকতে আর নেগেটিভ থিংকিং করতে করতে মানসিকভাবে এতটা অসুস্থ হয়ে গেছে যে, তার সঙ্গে থাকা, কথা বলা, কোনোটাই করা যাচ্ছে না। সন্তান, বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে এতটা ফ্রি হওয়া যায় না। সঙ্গী লাগে একজন।’

এর আগে মায়ের জন্য পাত্র চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে আলোচনা-সমালোচনার সম্মুখীন হন এক যুবক। 

এআরআই

আর্কাইভ