প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২৬, ১২:৪৩ এএম
কুমিল্লার ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১২ জনের প্রাণহানিতে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করে অঝোরে কাঁদলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী
ঈদ মানে আনন্দ, স্বজনের কাছে ফেরা, নিরাপদ যাত্রা। অথচ বাস্তবতা হলো—ঈদের এই আনন্দযাত্রাই বারবার রূপ নিচ্ছে মৃত্যুর মিছিলে। চলতি ঈদে দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি সেই নির্মম বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এগুলো কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি আমাদের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার করুণ ফল?
ঘটনাগুলোর দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট—এগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, অদক্ষ ড্রাইভার, ফিটনেসবিহীন যানবাহন—এসব যেন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল সড়ক ব্যবস্থাপনা। কোথাও স্পিড ব্রেকার আছে কিন্তু সতর্কতা নেই, কোথাও সড়ক সংস্কার চলছে কিন্তু সাইনবোর্ড নেই। ফলে দুর্ঘটনা যেন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তাহীনতা। কুমিল্লার ট্রেন-বাস সংঘর্ষ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—আমরা এখনো কতটা ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছি। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগেও অনেক লেভেল ক্রসিংয়ে নেই স্বয়ংক্রিয় গেট, নেই কার্যকর সিগন্যাল ব্যবস্থা। এই ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।
তবে দায় শুধু অবকাঠামোর নয়, দায়িত্বহীনতারও। আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ দুর্বল। নজরদারি আছে, কিন্তু কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ। ঈদের সময় সড়কে বাড়তি চাপ থাকবে—এটা নতুন কিছু নয়। তারপরও কেন প্রতি বছর একই চিত্র? কেন আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয় না?
এখন সময় এসেছে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে কঠোর আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই। বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন নামার আগেই বন্ধ করতে হবে। প্রতিটি রেলক্রসিংয়ে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ ও বিশ্রামের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। দ্রুত পৌঁছানোর চেয়ে নিরাপদে পৌঁছানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ—এই বোধ সবার মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। গণমাধ্যম, প্রশাসন ও সমাজ—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব নয়।
ঈদের আনন্দ বারবার শোকে পরিণত হবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিটি প্রাণহানি একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়, একটি সমাজকে আঘাত করে। তাই এখনই সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। নইলে আগামী ঈদেও আমরা হয়তো একই শিরোনাম লিখতে বাধ্য হব—‘সড়কে ঝরল আরও প্রাণ।’