প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২৬, ০১:৪২ এএম
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস-ট্রেনের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১২ জনের প্রাণহানিতে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করে অঝোরে কাঁদলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
রোববার সকালে সিঙ্গাপুর থেকে টেলিফোনে মন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় অঝোরে কাঁদতে দেখা যায় ওই সংসদ সদস্যকে।
তার কান্নার দৃশ্য রীতিমতো ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই কথোপকথনের একটি ভিডিও মনিরুল হক চৌধুরীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি মন্ত্রীকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুরোধ জানান এবং নিজের চিকিৎসা শেষ করে দ্রুত দেশে ফেরার কথাও জানান।
পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয় জানিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মন্ত্রীকে এমপি মনিরুল বলেন, গত ১০০ বছর ধরে এ ঘটনা ঘটছে, কেউ বিচার করে না। আমি চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রেল সচিবের কাছে সব কাগজপত্র আছে। পদুয়ার বাজার ব্যারিকেডে ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) টাকা দিয়েছিল, লুট করে খেয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জন্য ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিল সাইফুর রহমান, এই কাজটি কমপ্লিট করতে পারিনি।
এ সময় অপর প্রান্ত থেকে মন্ত্রী শেখ রবিউলকে বলতে শোনা যায়, আপনি সেদিনও বলেছেন, সেদিনও বলেছেন।
সঙ্গে সঙ্গে মনিরুল হক চৌধুরী কান্না করে বলেন, আপনি একটু গিয়ে দেখুন। আমার ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাল রাতে। ডাক্তার দেখানো হলে আমি কাল রাতেই ফ্লাইট ধরার চেষ্টা করব। এই লাশ দেখতে দেখতে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি ভাই রবিউল, এই পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ব্যারিকেড- আমি শান্তি পাব জীবনে। আমি কাউকে নিতে পারি নাই, আপনি একটু দেখে আসেন। মির্জা ফখরুলকে নোয়াখালী যাওয়ার সময় দেখিয়েছিলাম। আপনি একটু দেখে আসেন।
এ সময় মন্ত্রী শেখ রবিউলকে বলতে শোনা যায়, আমি যাচ্ছি রওনা দিয়ে। আমি যা করার করব। আপনি এভাবে বলছেন।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক। আপনি আমার ডাকে সাড়া দিয়েছেন।
পুরো কথোপকথনের সময়জুড়েই সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে কান্না করতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, রোববার ভোরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহণ নামে একটি বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেন। এ সময় বাসটিকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে।