প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেড-১-এর মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সচিবালয়ের নতুন ১ নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি জানান, নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানো হয়েছে। সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়বে।
নতুন বেতন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ওয়ান স্কেল, ওয়ান পে’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, ‘পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নিট পেনশন পার্সেন্টেজ অনুযায়ী সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক প্রভাব ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে পুরো কাঠামো একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে চলতি ২০২৬-২৭ এবং আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি। চলতি বছরের জুলাই থেকে বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে এবং পরবর্তী অর্থবছর থেকে সংশ্লিষ্ট বেতন-ভাতা কার্যকর করা হবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১ এ সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, আর ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া কৃষি কর্মকর্তাদের নিজ জেলায় পদায়নের সুযোগ দেয়ার কথাও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
এর আগে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের ৩০ শতাংশ ১ জুলাই থেকে কার্যকর, পরের বছরের শুরুতে আরও ৩৫ শতাংশ এবং তার পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের বিষয়েও সুপারিশের কথা ছিল।
অষ্টম পে কমিশন গঠনের প্রায় এক দশক পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় পে কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
পরে সুপারিশ বাস্তবায়ন তদারকির জন্য ২১ এপ্রিল ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণিকে ওই কমিটির প্রধান করা হয়।