• ঢাকা শুক্রবার
    ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

মুক্তিযুদ্ধ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান: শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও কল্যাণে অঙ্গীকার বিএনপির

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

মুক্তিযুদ্ধ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান: শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও কল্যাণে অঙ্গীকার বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রকে রক্ষা ও সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ অধ্যায় উল্লেখ করে শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, কল্যাণ এবং পুনর্বাসনে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬-এ এসব অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।

ইশতেহারে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও ১৯৯০ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

সেই রক্তার্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান।
ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের তালিকা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

ভাতা ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতি ও ত্রুটিমুক্ত করারও অঙ্গীকার করা হয়।

বিএনপি দাবি করে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বিকৃত করেছে। এ অবস্থায় শিক্ষা কারিকুলামে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া আগ্রহী ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় যোগ্য ও দক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সংরক্ষণের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের তালিকা প্রণয়ন করে নিজ নিজ এলাকায় তাদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ, শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বিএনপি। পাশাপাশি আন্দোলনে আহত ও পঙ্গু হওয়া ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

ইশতেহারে আরও বলা হয়, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বিভাগ শহীদ ও আহতদের মামলার দ্রুত বিচার, সম্মানজনক জীবিকা এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব নেবে।

একই সঙ্গে যোগ্যতা অনুযায়ী শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।

রাজনীতি সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ