• ঢাকা রবিবার
    ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

আ.লীগ উড়ে এসে জুড়ে বসবে, তা সম্ভব নয়: রিজভী

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

আ.লীগ উড়ে এসে জুড়ে বসবে, তা সম্ভব নয়: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, যারা নিজের দেশের সন্তানের রক্ত পান করতে দ্বিধা করে না, তারা আবার উড়ে এসে জুড়ে বসবে আর জনগণ তা মেনে নেবে– এটা কোনও দিনই সম্ভব নয়।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘এত মানুষের রক্ত ঝরিয়ে, এত নির্যাতন চালিয়ে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন যিনি, তিনি এখন বলছেন, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসবেন। কিন্তু এ দেশের মানুষের চোখের সামনে এখনও ভাসছে সেই তরতাজা শিশু-কিশোর ও তরুণদের মুখ, যারা বুক পেতে বুলেট গ্রহণ করেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে মহিমান্বিত গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, সেই বিপ্লব কি মুছে ফেলা যাবে? আবু সাঈদের আত্মত্যাগ, মুগ্ধের আত্মত্যাগ, ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ– এসব কি মুছে ফেলা যাবে?’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনা হঠাৎ প্যারাসুট দিয়ে নেমে আসবেন, সবাই ঢোল বাজিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানাবে– এটি কি কখনও সম্ভব? বাংলার মাটি বীরের মাটি। এই মাটি বহু বীরের জন্ম দিয়েছে। যারা নিজের দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, তারা আবার উড়ে এসে জুড়ে বসবেন, আর জনগণ তা মেনে নেবে– এটি কোনও দিনই সম্ভব নয়।’

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে ৭ নভেম্বরের চেতনার মিল তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘মানুষের ভেতরে ভেতরে যে ক্ষোভ জমে উঠেছিল, তার বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখেছি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। সেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাও ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা। অর্থাৎ আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের এ দেশীয় অনুচররা যতই চেষ্টা করুক, ১৮ কোটি মানুষের এই দেশকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। বাংলাদেশকে কখনও আধিপত্যবাদের থাবার মধ্যে নিয়ে আসা যাবে না।’

৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘৭ নভেম্বর শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হওয়ার দিন নয়, গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো নিশ্চিত হওয়ারও দিন। তবে এর তাৎপর্য শুধু এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। ৭ নভেম্বর বিদেশি প্রভাবমুক্ত পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়ন এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সূচনা করেছিল। বাংলাদেশ কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, কার সঙ্গে বৈরিতা থাকবে, কার সঙ্গে চুক্তি করবে– এসব বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের নিজস্ব ব্যাপার। এটি কারও নির্দেশে, কারও অঙ্গুলিহেলনে কিংবা কারও কথায় পরিচালিত হবে না।’

দীর্ঘদিন দিবসটি পালনে বাধার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭৬ সাল থেকেই দিবসটি সরকারিভাবে পালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার শাসনামলে দীর্ঘ ১৭ বছর এটি সরকারিভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি। তবে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি পালন করেছে। ফলে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য ও অন্তর্নিহিত চেতনা কখনও মুছে যায়নি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের অতীত আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কতবার প্রবেশের চেষ্টা করেছে! মার খেয়েছে, ফিরে গেছে। আবার এসেছে, আবার মার খেয়েছে, আবার ফিরে গেছে। কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর এই হামলা, তাদের শরীর থেকে ঝরে পড়া রক্ত কখনও বৃথা যায়নি। সারা দেশের মানুষ এসব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে। তাদের শরীর থেকে যে রক্ত ঝরেছে, তা এ দেশের অনেক তরুণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের চেতনা সৃষ্টি করেছে।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে রিজভী বলেন, তিনি একটি দক্ষ ও চৌকস সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি চাননি সেনাবাহিনী রাজনীতিকরণ হোক। আজকের আধুনিক সেনাবাহিনী জিয়াউর রহমানের অবদান।

দলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শত আক্রমণ ও হুমকির মুখেও তারেক রহমান দেশের হাল ধরে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সমুদ্রের মাঝেও দলকে সঠিক পথে নিয়ে যাচ্ছেন। ৭ নভেম্বর আমাদের এমন একটি কম্পাস, যা বিপদের সময়ও সঠিক পথ দেখায়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

রাজনীতি সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ