• ঢাকা বুধবার
    ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯

ভারত বধে সিরিজ জয় টাইগারদের

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৭, ২০২২, ০৮:২৬ পিএম

ভারত বধে সিরিজ জয় টাইগারদের

ক্রীড়া ডেস্ক

আজও মেহেদি হাসান মিরাজ। ব্যাটিং বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তুলে সম্মানজনক স্কোর করা। এরপর বাকীটা করেছে বোলাররা। ৫ রানে হারিয়েছে ভারতকে। টানা দুই ম্যাচ ভারতকে ওডিআই সিরিজ জয় করে নিয়েছে বাংলাদেশ। 

মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের করা ৪৯ তম ওভারে দুবার ক্যাচ দেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। কিন্তু এবাদত হোসেন এবং এনামুল হক বিজয় সেই ক্যাচ ধরতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজুর রহমানের শেষ ওভারে বুদ্ধিদিপ্ত বোলিংয়ে ৫ রানের জয় পায় বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে থেকে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে প্রথম বার ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের দেয়া ২৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ভারত। দলীয় ১৩ রানে প্রথম দুই উইকেট হারানো ভারতকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন ওয়াশিংটন সুন্দর ও রাহুল। তবে বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এবাদত-মোস্তাফিজ-সাকিবের বোলিং তোপে ৬৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত।

তবে সেই চাপ সামলে ভারতকে ম্যাচে ফেরান আয়ার ও প্যাটেল। দুইজনের দারুণ এক পার্টনারশীপে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৫৬ বলে ৫৬ রান করা প্যাটেলকে প্যাভিলিয়নে ফেরান এবাদত। তবে অন্যপ্রান্ত আগলে রেখে চাপ সৃষ্টি করছিলেন আয়ার। ব্যক্তিগত ৮২ রানে মিরাজের শিকার হয়ে আয়ার আউট হলে কিছুটা স্বস্তি পায় টাইগাররা।

বাংলাদেশকে শেষ দিকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় রোহিত শর্মার কাছে। ফিল্ডিংয়ের শুরুতেই আঙুলে চোট পাওয়া রোহিত ব্যান্ডেজ নিয়েই ব্যাটিংয়ে নামেন। শেষ দিকের ব্যাটারদের নিয়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে নিজের অর্ধ-শতক তুলে নেন তিনি। ব্যাট হাতে ঝড়ো ইনিংস খেলে ভারতের জয়ের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছিলেন তিনি। যদিও ম্যাচের একেবারে শেষ ওভারে ২০ রান নিতে ব্যর্থ হন তিনি। আর এর ফলে টানা দুই ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।  

এর আগে, টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক লিটন দাস। কিন্তু লিটনের সিদ্ধান্তের যোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হন ব্যাটাররা। উদ্বোধনী জুটিতে ১১ রান যোগ করতেই বিজয়কে তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ধাক্কা দেন মোহাম্মদ সিরাজ। অবশ্য বিদায়ের একবল আগে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছিলেন বিজয়। কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি।

বিজয়ের বিদায়ের পর লিটনকে সাজঘরের পথ দেখান মোহাম্মদ সিরাজ। ভারতীয় এই পেসারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক (২৩ বলে ৭)। ইনিংসের ১২তম ওভারে তরুণ পেসার উমরান মালিক বল হাতে নিয়েই গতির ঝড় তুলতে থাকেন। সাকিবকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তাকে সামলাতে। এক ওভারেই কয়েকবার পরাস্ত হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। তবে ওই ওভারটি মেইডেন দিলেও আউট দেননি সাকিব।

এক ওভার পর নাজমুল হোসেন শান্তকে পেয়ে আর উইকেট তুলে নিতে দেরি করেননি উমরান। প্রথম বলেই তিনি ১৫১ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতির এক বলে ভেঙে দেন শান্তর স্টাম্প। ৩৫ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২১ রান করে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।

এরপর সাকিব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ওয়াশিংটন সুন্দরকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে আকাশে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ২০ বলে ৮ রানেই থামে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের ইনিংসটি।

এরপর এক ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নেন ওয়াশিংটন সুন্দর। মুশফিক খেলছিলেন বেশ দেখেশুনে। সুন্দরের ঘূর্ণিতে তার প্রতিরোধও ভেঙে যায় ১৯তম ওভারে। মুশফিক ডিফেন্ডই করেছিলেন। বল তার গ্লাভসে লেগে শর্ট লেগ ফিল্ডার ধাওয়ানের হাতে চলে যায়।

২৪ বলে ২ বাউন্ডারিতে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। সুন্দরের তার ঠিক পরের বলেই আফিফ হোসেন লাইন মিস করে হন বোল্ড (০)। তখন দলীয় রান ৬৯। একই রানে ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে গোল্ডেন ডাক মারেন আফিফ হোসেন। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দলের হাল ধরেন মিরাজ ও রিয়াদ।  

এআরআই

আর্কাইভ