প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
চতুর্থ মিনিটেই গোল হজম করল ইরাক, এরপর লাল কার্ডের ধাক্কা। টালমাটাল হয়ে যাওয়া দলটি পরে আর পারল না ঘুরে দাঁড়াতে। দ্বিতীয়ার্ধে গোল উৎসব করে, ইরাককে উড়িয়ে নকআউট পর্বে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল সেনেগাল।
টরেন্টোয়, শুক্রবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়েছে সেনেগাল।
টানা দুই হারের পর পাওয়া এই জয়ে, ৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘আই’ গ্রুপে তৃতীয় হয়েছে তারা। তৃতীয় সেরা আট দলের একটি হয়ে, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা টিকে আছে আফ্রিকার দলটির।
তিন ম্যাচেই জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে ফ্রান্স। শেষ ম্যাচে তাদের কাছে ৪-১ গোলে হারা নরওয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ।
৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে মাথা উঁচু করে লড়াই করার যে লক্ষ্য ছিল, তা পূরণ হলো না ইরাকের। তিন ম্যাচের সবগুলো হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেল গ্রাহাম আর্নল্ডের দল।
১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ইরাক গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই হেরেছিল, তবে সেবার ৪ গোল খেয়ে, দিয়েছিল একটি। এবার ১২ গোল হজম করে, ফিরিয়ে দিতে পারল মাত্র একটি।
গ্রুপ পর্ব পেরুনোর আশা বাঁচিয়ে রাখতে দুই দলেরই প্রয়োজন ছিল জয়ের। সেনেগাল শুরুটা করে আগ্রাসী। চতুর্থ মিনিটে ইদ্রিসা গানার শট এক জনের গায়ে লেগে কর্নার হয়। সেই কর্নারে হাবিব দিয়ারার হেড এক ড্রপ খেয়ে জালে জড়ালে, এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি।
ত্রয়োদশ মিনিটে আরেক বড় ধাক্কায়, দশ জনের দলে পরিণত হয় ইরাক। শেষ খেলোয়াড় হিসেবে সাদিও মানেকে পেছন থেকে টেনে ধরেন রেবিন সুলাকা। শুরুতে হলুদ কার্ড দিলেও, পরে ভিএআর দেখে, ফাউলের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
১৯তম মিনিটে সতীর্থের লং পাস দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন আলি আল হামাদি। কিন্তু তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন আব্দুল্লাইয়ে সেক। সেনেগালের এই ডিফেন্ডারকে রেফারি দেখান হলুদ কার্ড দেখান। ডাগআউটে অবশ্য ইরাককে এই সিদ্ধান্তে খুব একটা খুশি হতে দেখা যায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে তিন মিনিটের ঝড়ে ইরাককে এলোমেলো করে দেয় সেনেগাল। ৫৪তম মিনিটে ইসমাইলা সারের কাছের পোস্ট নেওয়ার শট গোলকিপার ফেরানোর, দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় তারা। ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার আগে, বাইলাইনের উপর থেকে বক্সে কাটব্যাক বাড়ানে লামিন কামারা; নিখুঁত প্লেসিং শটে লক্ষ্যভেদ করেন সার। ৫৯তম মিনিটে পেপে বক্সের বাইরে থেকে দৃষ্টিনন্দন কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ব্যবধান আরও বাড়ান।
৭১তম মিনিটে সতীর্থের হেড পাসে, বক্সের ভেতরে ঢুকেই পেপের বাম পায়ের জোরাল ভলি চোখের পলকে জালে জড়ায়। তাতে ইরাকের হার স্রেফ সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
তৃতীয় সেরা দলের একটি হতে, বড় ব্যবধানের জয়ের প্রয়োজনে ইরাকের রক্ষণে চাপ দিতে থাকে সেনেগাল। ৮২তম মিনিটে লিমান এনদিয়ে স্কোরলাইন করেন ৫-০। তাতে দলটির গোল ব্যবধান -৩ থেকে এখন +২। গ্রুপে তৃতীয় হওয়া সেরা আট দলের তালিকায় তারা এ মুহূর্তে আছে পঞ্চম স্থানে। গ্রুপের সবগুলো ম্যাচ শেষ হলেই জানা যাবে, সেরা বত্রিশে সেনেগাল উঠছে কি না।