• ঢাকা মঙ্গলবার
    ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

আবার আকাশে দেখা যাবে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

আবার আকাশে দেখা যাবে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে

সিটি নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে আবারও আকাশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তাকে ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে ক্যাপ্টেন তাসবিরুল বলেন, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ২০০৭ সালে কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় দুই দশক পর এসে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসাকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা হিসেবে দেখছেন। তার দাবি, এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই এবং পোস্টটিতে তার ব্যক্তিগত পরিচয়, জন্মস্থান ও ঠিকানা সম্পর্কেও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।

ক্যাপ্টেন তাসবিরুলের ভাষ্য, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে অপারেটিং লাইসেন্স পায়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিকভাবে বৈরী পরিবেশের মুখোমুখি হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) সঙ্গে নানা জটিলতার কারণে এয়ারলাইনটি দীর্ঘমেয়াদি অসহযোগিতার শিকার হয়। এ প্রক্রিয়ায় সালমান এফ রহমান, মাহতাবুর রহমান এবং সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াতসহ কয়েকজনের ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

২০১০ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের আইপিওর পর প্রতিষ্ঠানটির ওপর চাপ আরও বাড়ে বলে দাবি করেন ক্যাপ্টেন তাসবিরুল। তার অভিযোগ, ১৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে ১৪ জনকে রাতারাতি অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে নন-কমপ্লায়েন্ট অবস্থায় পড়ে।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের আর্থিক সংকট ও পরবর্তী পতনের পেছনে সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের বেআইনি কর্মকাণ্ড দায়ী—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সিএএবি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ২০৮ কোটি টাকার মামলা করেছিলেন। মামলাটির নম্বর ৫৩/২০৫১ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া শিবলী রুবাইয়াত, ড. শামসুদ্দিন, মাহতাবুর রহমান, নজরুল ইসলাম, কাজী ওয়াহিদুল আলমসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে মামলা করার কথা জানান তিনি। তার দাবি, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।

বিমানগুলো পড়ে থাকার দায় কার?

বিমানবন্দরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কিছু বিমান পড়ে থাকা এবং সেগুলোর বর্তমান অবস্থার বিষয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ক্যাপ্টেন তাসবিরুল।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি বিমানগুলো ও প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যান। এরপর বিএসইসি তাকে নির্বাহী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে নতুন বোর্ড বসায় বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য, ওই সময়ের পর থেকে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ বা সেগুলোর অবনতির দায় তার ওপর বর্তায় না। বরং নতুন বোর্ডের সময়কালেই এসব সম্পদের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আগেও ব্যবসা ছিল, এখনো আছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে তার ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সম্পদের বিষয়ে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও ভুল বলে দাবি করেন ক্যাপ্টেন তাসবিরুল।

তিনি বলেন, তার জন্মস্থান ও ঠিকানার মতো মৌলিক তথ্যই যখন ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তখন পুরো পোস্টটির তথ্য যাচাইয়ের মান নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও অস্বীকার করে তিনি বলেন, তাদের এমন কোনো ঋণ হিসাবই ছিল না।

টিএসি পারফিউমস এবং দুবাইয়ে সম্পত্তির মতো ব্যবসা বা বিনিয়োগও নতুন নয় বলে জানান তিনি। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ প্রতিষ্ঠার আগেও তার ব্যবসা ছিল এবং এখনো তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে জানান।

‘শেয়ার বিক্রি করিনি, এয়ারলাইন ফিরিয়ে আনতে চাই’

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে আবারও আকাশে ফেরানোর বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ক্যাপ্টেন তাসবিরুল।

তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার দাবি, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার শেয়ারহোল্ডার এবং শত শত কর্মীর স্বার্থেই তিনি এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ক্যাপ্টেন তাসবিরুল বলেন, যদি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ থেকে সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার থাকত, তাহলে তিনি নিজের শেয়ার বিক্রি করে দিতেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি একটি শেয়ারও বিক্রি করেননি বলে দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে পুনরায় চালু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।

‘পুনরুজ্জীবন ঠেকাতেই অপপ্রচার’

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে পুনরায় চালুর উদ্যোগ শুরু হওয়ার সময়েই তার বিরুদ্ধে নতুন করে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হওয়াকে কাকতালীয় নয় বলে মনে করছেন ক্যাপ্টেন তাসবিরুল।

তার অভিযোগ, এয়ারলাইনটি পুনরায় চালু হলে যেসব প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, তাদের কেউ কেউ এই প্রচারণার পেছনে থাকতে পারেন।

তিনি বলেন, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ পুনরায় চালু হলে শুধু ১ লাখ ৬০ হাজার শেয়ারহোল্ডারই উপকৃত হবেন না; এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশের এভিয়েশন খাতে প্রতিযোগিতা ও যোগাযোগব্যবস্থা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ক্যাপ্টেন তাসবিরুল বলেন, তাকে নিয়ে যত ধরনের অপপ্রচারই হোক, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে আবার আকাশে ফেরানোর প্রচেষ্টা থেকে তিনি সরে যাবেন না।

এভিয়েশন ও পর্যটন সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ