প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ লিজে আনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন (১৫০ কোটি) মার্কিন ডলার বিনিয়োগে আনা এসব উড়োজাহাজ ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বিয়ন্ড উইথ বোয়িং’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট (বিক্রয়) পল রেগি, প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন বহরে যুক্ত হবে ১৫টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বিমানগুলো ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ (২৪ মিলিয়ন) যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়া দেশের ক্রমবর্ধমান বিমানযাত্রীর চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের এমডি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বেসামরিক বিমান চলাচল বাজারগুলোর একটি। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের ৩০ শতাংশেরও কম সেবা দিচ্ছে বাংলাদেশি এয়ারলাইনসগুলো। বিপরীতে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার আয় করছে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপ, ওশেনিয়া ও উত্তর আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে ভবিষ্যতে ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে, যা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস নিজস্ব অর্থায়নে ২০০ জন তরুণকে পাইলট এবং ১০০ জনকে সার্টিফায়েড এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট (বিক্রয়) পল রেগি বলেন, নতুন প্রজন্মের জ্বালানি-সাশ্রয়ী বোয়িং উড়োজাহাজ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে এই চুক্তি শুধু একটি বাণিজ্যিক সমঝোতা নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। এই উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পর্যটন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।