প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন ও গবেষণায় বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে আর বিজনেস অ্যাজ ইউজুয়াল ধারায় রাখার সুযোগ নেই। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও সমতাভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতকে প্রযুক্তিবান্ধব ও আধুনিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের ২০ কোটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি জাতীয় ডিজিটাল হেলথ সিস্টেম, হেলথ কার্ড এবং সুনির্দিষ্ট রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে দেশের সব নাগরিকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
হাসপাতালের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি নিরসনে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, সকাল আটটায় গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে শত শত অসুস্থ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এই ভোগান্তি দূর করতে হাসপাতালগুলোতে অ্যাপভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়ের স্লটে সিরিয়াল নেওয়ার পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। তরুণ প্রযুক্তিবিদ ও উদ্ভাবকদের তৈরি আধুনিক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব।
একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ বাইরে বিক্রি হয়ে যাওয়া বা অনিয়ম ঠেকাতে আধুনিক সাপ্লাই চেইনে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে গবেষণাকে ‘ব্যয় নয়, বরং ভবিষ্যতের বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে তরুণ চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য একটি বিশেষ গবেষণা তহবিল বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলকে (বিএমআরসি) শক্তিশালীকরণ এবং সরকারি উদ্যোগে আধুনিক মলিকুলার ল্যাব স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) সক্ষমতা বাড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ম্যাচ্যুরিটি লেভেল ৩ (এমএল-৩)’ অর্জনে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ কমাতে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও লার্ভা নির্মূল পদ্ধতির ট্রায়াল বাড়ানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সক্ষমতা গড়ে তুলতে একটি জাতীয় ভ্যাকসিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে কর্মরত সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগাতে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ প্রক্রিয়া জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন ড. এম এ মুহিত। পাশাপাশি স্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।