• ঢাকা মঙ্গলবার
    ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

পাবনায় সনাতন পল্লী চিকিৎসককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ চেষ্টা, পাশে দাঁড়ালেন শিমুল বিশ্বাস এমপি

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

পাবনায় সনাতন পল্লী চিকিৎসককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ চেষ্টা, পাশে দাঁড়ালেন শিমুল বিশ্বাস এমপি

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার সদর উপজেলার দুবলিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামে এক পল্লী চিকিৎসককে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বৃন্দাবন মৈত্র ওই এলাকার মৃত বিনোদ চন্দ্র মৈত্রের ছেলে। তিনি স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত।

এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতেও সাহস পাচ্ছিলেন না ভুক্তভোগীরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃন্দাবন মৈত্র ওই রাতে দুবলিয়া বাজারের ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়িতে ফেরেন। এর কিছুক্ষণ পর রাত সোয়া এগারোটার দিকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি রোগী দেখার কথা বলে তাঁকে বারান্দায় ডাকে। তিনি বাইরে আসতেই দুর্বৃত্তরা তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ভয় দেখালে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা চিৎকার শুরু করেন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এদিকে খবর পেয়ে পাবনা সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নির্দেশে জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলামসহ একটি প্রতিনিধিদল ঘটনার পর ওই চিকিৎসকের বাড়িতে যান। তাঁরা ভুক্তভোগীকে অভয় দিয়ে জানান, কোনো অপশক্তিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। সংসদ সদস্য নিজে প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী বৃন্দাবন মৈত্র বলেন, ‘কারও সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। কেন এমনটা হলো বুঝতে পারছি না। ভয়ে প্রথমে মামলা করতে চাইনি, তবে এমপি সাহেবের প্রতিনিধিরা এসে সাহস দেওয়ার পর এখন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাসের রাজনৈতিক সহযোগী জহুরুল ইসলাম বলেন, কোনো অশুভ শক্তি যেন দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য তাঁরা সজাগ আছেন। সংসদ সদস্য নিজে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন যাতে কোনো ছাড় না দেওয়া হয়।

পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আর্কাইভ