প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর সূচক হলো জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেই আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়ে। তাই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনায় অগ্রগতির খবরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে আসা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই যায়। ফলে এই প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে শুধু তেলের দামই নয়, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। গত কয়েক মাসের সংঘাত বিশ্ববাজারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখেছিল।

বর্তমানে ইরান ও ওমানের মধ্যস্থতায় যে আলোচনা এগোচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়িয়েছে। সেই কারণেই ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। যদিও এটি এখনো স্থায়ী প্রবণতা নয়, তবুও কূটনৈতিক উদ্যোগ যে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তার আরেকটি উদাহরণ এটি।
বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে আমদানি ব্যয় কমতে পারে, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা হ্রাস পেতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে এই সুবিধা টেকসই হবে কি না, তা নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকে তার ওপর।

তবে শুধু বাজারের প্রতিক্রিয়া দেখেই আশ্বস্ত হওয়ার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বহুবার প্রমাণ করেছে, একটি ছোট ঘটনা মুহূর্তেই পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত আলোচনার গতি ধরে রাখা এবং সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা শুধু তেলের দাম কমানোর বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তির পথে অগ্রগতি হলে এর সুফল শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোই নয়, বিশ্বের প্রতিটি জ্বালানি-নির্ভর অর্থনীতিই ভোগ করবে।