প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
বিশ্বের জ্বালানি করিডোরখ্যাত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পানিপথে মাইন পুঁতছে ইরান। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই টালমাটাল হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের বাজার। ইতোমধ্যে ইউরোপের বাজারে ছয় শতাংশ দাম বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে—এমন আশঙ্কা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যজুড়ে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে—এমন অসমর্থিত খবরের পর বাজারগুলোতে এ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এই প্রণালী দিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হলে ইউরোপ ও এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকালের লেনদেনের সময় ইউরোপীয় গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আর ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের প্রধান চুক্তির মূল্য বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ১৬টি ইরানি জাহাজকে ‘নির্মূল’ করেছে, যারা জলপথের কাছে মাইন স্থাপন করছিল বলে দাবি করা হয়েছে—এর কারণে উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করেছে।
এর আগে ইউএস ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের সঙ্গে পরিচিত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে। প্রণালীটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাইন স্থাপনের কাজ এখনো ব্যাপক আকারে শুরু হয়নি; গত কয়েক দিনে মাত্র কয়েক ডজন মাইন স্থাপন করা হয়েছে। তবে একটি সূত্রের মতে, ইরানের ৮০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ ছোট নৌকা এবং মাইন স্থাপনকারী যান এখনো অক্ষত রয়েছে, ফলে তাদের বাহিনী চাইলে এই জলপথে কয়েকশ মাইন পেতে রাখতে পারে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), যারা বর্তমানে ইরানের প্রথাগত নৌবাহিনীর পাশাপাশি কার্যকরভাবে এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের কাছে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় মিসাইল ব্যাটারির একটি শক্তিশালী ‘ব্যুহ’ মোতায়েন করার সক্ষমতা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেছেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে—যদিও আমাদের কাছে এমন কোনো রিপোর্ট নেই—তবে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া হোক!’
সূত্র: আলজাজিরা ও সিএনএন।