প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ও ঐকমত্য হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। এমন খবরকে ‘মিথ্যা কথা’ বলে উল্লেখ করেছে দেশটি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এমন মন্তব্য করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে একই দাবি করে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার দাবি করেন, ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কথা হয়েছে। ইরানই প্রথমে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছিল।
এ বিষয়ে ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছেও একই দাবি করেন।
ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে গতকাল ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বেশ জোরাল আলোচনা হয়েছে এবং দুপক্ষ ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে একমত’ হতে পেরেছে। রোববার হওয়া আলোচনা সোমবারও (গতকাল) অব্যাহত থাকবে।
ট্রাম্প বলেন, ‘দেখা যাক, এগুলো (জোরাল আলোচনা) কোন দিকে নিয়ে যায়। আমি বলব, আমাদের মধ্যে প্রধান প্রধান বিষয়ে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রায় সব বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে খুব আগ্রহী। আমরাও একটি চুক্তি করতে চাই। আজ (সোমবার) সম্ভবত ফোনের মাধ্যমে আমাদের কথা হবে।’
ট্রাম্পের দাবি, তাঁর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ আলোচনা চালাচ্ছেন।
ইরানের ঠিক কার সঙ্গে কথা হচ্ছে, তাঁর নাম উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প বলেন, এই আলোচনায় ইরানের একজন ‘শীর্ষ পর্যায়ের সম্মানিত নেতা’ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তবে ট্রাম্প জানান, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কিছু জানতে পারেনি। মোজতবা বেঁচে আছেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তিনি মোজতবা খামেনির মৃত্যু কামনা করেন না বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটিতে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের অস্বীকার
ট্রাম্পের এসব দাবির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে গেছে, তা থেকে বাঁচতে মিথ্যা খবর ব্যবহার করা হচ্ছে।’
দ্বিতীয় একটি পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ইরান ‘আগ্রাসনকারীদের পূর্ণাঙ্গ ও অনুশোচনামূলক শাস্তি’ দাবি করে। এ লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের কর্মকর্তারা ‘দৃঢ়ভাবে তাঁদের সর্বোচ্চ নেতা ও জনগণের পাশে রয়েছেন।’
গালিবাফের পোস্টের আগে এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবরটি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে তেহরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
বাগাইয়ের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অনুরোধ নিয়ে কিছু বন্ধু দেশের কাছ থেকে বার্তা পাওয়া গেছে।
বাগাই আরও জানান, এর জবাবে ইরান ‘তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যেকোনো হামলার ভয়াবহ পরিণতি’ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা