প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১০:০৭ এএম
ভেনেজুয়েলায় গত জুনে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ১২৫ জনে পৌঁছেছে।
দেশটির জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ সোমবার (৩ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভূমিকম্পে আহত হয়ে ৬১ হাজার মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
জর্জ রদ্রিগেজ টেলিগ্রাম বার্তায় হালনাগাদ হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেন। তবে এ ঘোষণার মধ্যেই অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রম নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে মরিয়া হয়ে ওঠেন হাজারো মানুষ। এ সময় অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, উদ্ধারকাজে সরকার ও সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় দ্রুততা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বহু মানুষ সময়মতো সহায়তা পাননি।
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী কারাকাস। অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুরোপুরি পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
এদিকে, বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার ভৌত অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। দুর্যোগের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই অর্থ কীভাবে এবং কবে পাওয়া যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সামরিক অভিযানে অপসারণের পর দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং বহাল থাকা কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তুলেছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল অবশিষ্ট নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের অর্থ দ্রুত ভেনেজুয়েলায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।
সূত্র: আলজাজিরা