প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হতে পারে– এমন নতুন আশার কারণে বুধবার (২৬ আগস্ট) তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। কৌশলগত এই নৌপথ পরিচালনার বিষয়ে প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে বলে ইরান জানানোর পর তেলের দামে এই পতন দেখা যায়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৭৮ ডলার বা ২.০ শতাংশ কমে ৮৬.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্স ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১.৪৯ ডলার বা ১.৮ শতাংশ কমে ৮০.৮৭ ডলারে নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার উভয় বেঞ্চমার্কের দামই ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল।
ফুজিটমি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মিতসুরু মুরাইশি বলেছেন, ‘বাজার এখনো হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে এবং ইরান ও ওমানের মধ্যকার আলোচনায় অগ্রগতির আশার কারণে বিক্রি বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘তা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের পূর্বাভাস নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সস্তায় কেনার প্রবণতা দেখা গেছে, যা আরও দরপতন সীমিত করেছে ও আপাতত তেলের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক চাপ বেড়ে যাওয়ার মুখে হরমুজ প্রণালী পরিচালনার জন্য ওমানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরুর আগে যে নৌপথটি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ আনা-নেওয়া হতো, সেই নৌপথের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরান ও ওমান গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
উভয় দেশ মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা প্রণালীর মধ্য দিয়ে ‘একটি যৌথ অস্থায়ী নেভিগেশনাল করিডোর’ নিয়ে আলোচনা করেছে এবং এটি মাইনমুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।
চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের কিছু কূটনৈতিক মিশনে তাদের কর্মী পাঠাতে শুরু করেছে, যেগুলো থেকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার কারণে কর্মী সরানো হয়েছিল বা কর্মী কমানো হয়েছিল।
এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয়, ওয়াশিংটন মনে করছে স্বল্প মেয়াদে ইরানের সঙ্গে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমেছে, যদিও কিছু দূতাবাস শুরুতে পূর্ণ সক্ষমতার চেয়ে কম কর্মী নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
গত সোমবার ওয়াশিংটন ইরানের ইকোনমিক লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়িয়েছে এবং তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যদিও তারা জানিয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।
এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওমানের আশ শিশার থেকে প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল (১৭ কিমি) উত্তর-পূর্বে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি তেল ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে পড়েছে।
বাজারের সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট রিপোর্ট করেছে– গত ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৪২ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স