• ঢাকা মঙ্গলবার
    ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন ‍‍`শুট দ্য মেসেঞ্জার‍‍` প্রবণতার দৃষ্টান্ত: টিআইবি

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন ‍‍`শুট দ্য মেসেঞ্জার‍‍` প্রবণতার দৃষ্টান্ত: টিআইবি

সিটি নিউজ ডেস্ক

টেকনোক্র‍্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ সংবিধানসম্মত নয় এবং এ বিষয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা না করে পদ গ্রহণও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি।

একইসঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন “শুট দ্য মেসেঞ্জার” প্রবণতার দৃষ্টান্ত এবং মুক্ত গণমাধ্যম ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের প্রতি হুমকি উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এমন উদ্বেগ জানিয়েছে।

তবে, মঙ্গলবারই আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সাংবিধানিকভাবেই শপথ নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে, এমনকি সংশ্লিষ্ট দেশের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে বিষয়টি উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “টেকনোক্র‍্যাট কোটায় দ্বৈত নাগরিকত্বধারীর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ অসাংবিধানিক। সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য নন-এমন ব্যক্তিকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।”

“অন্যদিকে, ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনকারী বা সেই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারকারী ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য। একইসঙ্গে ৬৬(২ক) অনুচ্ছেদে দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টিও সুস্পষ্ট। ফলে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকা অবস্থায় টেকনোক্র‍্যাট কোটায় তার নিয়োগ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের অবস্থান প্রকাশ না করে প্রতিমন্ত্রীর পদ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন” বলেন মি. ইফতেখারুজ্জামান।

একইসঙ্গে, সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি যেভাবে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন সেটি “পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের “শুট দ্য মেসেঞ্জার” চর্চারই প্রতিফলন” বলেও উল্লেখ করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

“সংবাদটি কে করেছে বা কে প্রশ্ন তুলেছে, তা এখানে মূল বিষয় নয়। মূল প্রশ্ন হলো, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তার বিদেশি নাগরিকত্ব বহাল ছিল কি না। এমন একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া তার দায়িত্ব” বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মূল বিষয় দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কে নিজের অবস্থান সুস্পষ্ট করারও আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

এছাড়া সরকারের অন্য কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা সমমর্যাদার দায়িত্বশীল ব্যক্তির দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্ন থাকলে, স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক জবাবদিহির স্বার্থে তাদের ক্ষেত্রেও একইভাবে অবস্থান ও তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ