• ঢাকা বুধবার
    ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মহাখালীতে কিশোরীর আত্মহত্যা ঘিরে রহস্য

মাদক সেবন করিয়ে বাড়িতেই দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

মাদক সেবন করিয়ে বাড়িতেই দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানীর মহাখালীতে গত ১৫ জুলাই ১৩ বছরের কিশোরী সিমির আত্মহত্যার ঘটনায় সামনে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। পরিবারের অভিযোগ, জোরপূর্বক মাদক সেবন করিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে সিমিকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। সিমিদের বাসায় সাবলেট থাকা সাইদুর-টুম্পা দম্পতির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তাদের।

মৃত্যুর আগে সিমি, তার মা ও এক স্বজন বনানী থানায় গিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ জানালেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবারটির। তবে, বনানী থানা পুলিশের দাবি, সিমির মৃত্যুর আগে তাদের কাছে কেউ এমন অভিযোগ দিতে আসেনি।

মহাখালীর এক ভবনের ৬ তলায় মায়ের সঙ্গে থাকত সিমি। গত এপ্রিল মাসে বাড়ির ম্যানেজারের মাধ্যমে দুই সন্তানসহ এই বাড়িতে সাবলেট হিসেবে ওঠেন সাইদুর ও টুম্পা দম্পতি। এরপরই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। অভিযুক্তরা ১ মে বাসা ছেড়ে দেওয়ার পর মেয়ের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন মা। তিনি বলেন, বাসা সাবলেট দেওয়ার পর ওদের নানা অনিয়মের কথা জানতে পারি। তারা বাসা ছাড়ার পর থেকেই ঘর থেকে টাকা খোয়া যেতে শুরু করে। পরে স্বজনদের চাপের মুখে কিশোরী সিমি জানায়, তাকে হুমকি দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

সিমির মা আরও বলেন, বনানী থানায় নিয়ে যাওয়ার পর মেয়ে সবকিছু খুলে বলে এবং নির্যাতনের কথাও জানায়। পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি বিস্তারিত শোনেন। এরপর অভিযুক্তের ছবি দেখালে তিনি পরদিন থানায় আসতে বলেন। তবে, পরদিন আমি ফোন করে জানতে চাইলে তারা যেতে মানা করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বনানী থানায় যোগাযোগ করা হলে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তবে মুঠোফোনে তারা জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। যদিও মৃত্যুর আগে কিশোরী সিমির থানায় উপস্থিতি ও মৌখিক অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ।

বাসা ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে সাইদুর দম্পতির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। জাতীয় পরিচয়পত্র বা কোনো তথ্য যাচাই ছাড়াই সাইদুরকে সাবলেট হিসেবে ভাড়া দেন বাড়ির ম্যানেজার।

এদিকে, সিমির আত্মহত্যার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

আর্কাইভ