• ঢাকা বুধবার
    ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

সালথায় পাটের ভালো দাম নিয়ে শঙ্কা: অনাবৃষ্টিতে বাড়তি খরচ, লোকসানের মুখে চাষিরা

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

সালথায় পাটের ভালো দাম নিয়ে শঙ্কা: অনাবৃষ্টিতে বাড়তি খরচ, লোকসানের মুখে চাষিরা

ফরিদপুর প্রতিনিধি

অনাবৃষ্টি ও জলাশয়ে পানির অভাবে বিপাকে পড়েছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পাটচাষিরা। খেতের আশপাশে পানি না থাকায় দূরে নদী, খাল কিংবা পুকুরে নিয়ে পাট জাগ দিতে গিয়ে বাড়তি গুনতে হচ্ছে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ। মৌসুমের শুরুতে বাড়তি সেচ এবং এখন দূর-দূরান্তে পাট নিয়ে জাগ দেওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে জলাশয়গুলোতে কিছুটা পানি আসায় বর্তমানে আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীরা।

উপজেলার যদুনন্দীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে নদী, খাল ও বিলের পানিতে কৃষকদের ব্যস্ততা। কেউ পাট জাগ থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, কেউ ধোয়ার পর রোদে শুকাতে দিচ্ছেন।

কৃষকদের মতে, সালথার গ্রামীণ অর্থনীতি অনেকটাই পাট ও পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করে। যদুনন্দী এলাকার চাষি মিরাজ মোল্যা বলেন, "জমির পাশে পানি না থাকায় গাড়ি ভাড়া করে নদীতে পাট নিতে হয়েছে। পাটের ভালো দাম না পেলে এবার বড় লোকসান হবে।" আরেক কৃষক আলাউদ্দিন জানান, অনেকে খরচের আশঙ্কায় নিজস্ব পুকুরে সেচ দিয়ে পানি ঢুকিয়ে পাট জাগ দিয়েছেন। উৎপাদন খরচের সামঞ্জস্য রেখে বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি তাঁর।

সালথা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে তোষা পাটের ‍‍`জেআরও-৫২৪‍‍` (নাবিল) জাতের চাষ সবচেয়ে বেশি।

উপজেলা উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, "অনাবৃষ্টির কারণে সেচ ও পরিবহন বাবদ কৃষকদের উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে আঁশ ছাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।"

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেজাউল করিম জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর পাটের ফলন কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে।

আর্কাইভ