প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটে জুমার নামাজের সময় পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। পাকিস্তানের উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর পুলিশ লাইনের ভেতরে এক সন্ত্রাসীকে স্নাইপারের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ লাইনসের দেয়ালে ধাক্কা দেয়। এরপর সন্ত্রাসীরা ভেতরে ঢুকে হামলা চালায়। বিস্ফোরণে মসজিদটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মোট সাতজন সন্ত্রাসী এ হামলা চালায়। এর মধ্যে ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে। বাকি একজন পুলিশ লাইনের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের ভেতরে অবস্থান নিয়ে মাঝেমধ্যে গুলি চালাচ্ছিল। তাকে ভবনটির মধ্যে আটকে রেখে অভিযান চালাচ্ছে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা।
আহতদের দ্রুত কোহাটের সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের পর হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করার সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে।
নিহত কয়েকজন পুলিশ সদস্যের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফাহিম, ফরিদ, ইসমাতউল্লাহ, সামিউল্লাহ, আবদুল ওয়াহাব, ইন্সপেক্টর ইশতিয়াক ও এসপি ট্রাফিক আকবর শিনওয়ারি।
নিহত বেসামরিকদের মধ্যে ডা. ইসরাফিল এবং দুই শিশু আবদুল্লাহ ও আসাদ রয়েছেন। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।