প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইদুবাই বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করার সময় সহ-পাইলট পাইলটকে বিমানের জরুরি ব্যবহারের কুঠার (ক্র্যাশ অ্যাক্স) দিয়ে আঘাত করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রসিকিউটর জেনারেল।
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইটে ১৭০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। যাত্রা শুরুর প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি হঠাৎ ১৭ হাজার ফুট বা প্রায় ৫,২০০ মিটার নিচে নেমে যায়। পরে যাত্রীরা হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেন।
ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চার বলেন, হামলার সময় তিনি আহত হয়ে বিমানের মেঝেতে পড়ে ছিলেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন যে বিমানটি নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে এবং তাকে দ্রুত কিছু করতে হবে।

তিনি বলেন, “আমি নিজেকে বলেছিলাম, দরজাটি ভেতর থেকে খোলার জন্য শেষবারের মতো চেষ্টা করতে হবে।”
এরপর তিনি ভেতর থেকে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন এবং যাত্রীরা সেখানে প্রবেশ করতে পারেন। পরে দুজন বিকল্প পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান।
বিমানের ককপিটে সাধারণত জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য একটি ক্র্যাশ অ্যাক্স বা কুঠার রাখা হয়।
তদন্তকারীদের জন্য এই অস্ত্রটি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের মতো স্পর্শকাতর রুটে চলাচলকারী একটি বিমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর। বিমানের যাত্রীদের দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্যে অবশ্য বলা হয়েছিল, হামলায় সম্ভবত একটি ছুরি ব্যবহার করা হয়েছিল।

ইউএই-এর অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি এবং হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামলাকারী ছিলেন ওমানের নাগরিক।
রয়টার্স, সিএনএন এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হামলাকারীর নাম হামাম আল-হাম্মামি বলে জানিয়েছে। তবে তার নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ইউএই কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এর আগে ওমান এয়ারে কাজ করার সময় আল-হাম্মামিকে পাইলট প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাকে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থায় অন্য একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।
তিনি যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে তিন বছরের একটি দূরশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেন এবং ২০২৩ সালে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানিয়েছে, সেখানে তিনি কোনো পাইলট প্রশিক্ষণ নেননি।
ফক্স নিউজকে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারীকে বিমানের ভেতরে নিয়ন্ত্রণে আনার পর সে ক্রুদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেছিল, “আমাকে মেরে ফেলো, আমাকে মেরে ফেলো!”
নেতানিয়াহু বলেন, “তাই এটা স্পষ্ট যে সে আত্মহত্যাপ্রবণ ছিল… খুব সম্ভবত সে বিমানটি ভূপাতিত করতে যাচ্ছিল।”
তিনি আরও দাবি করেন যে হামলাকারী “ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিল।”
ইউএই-এর অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছেন, তদন্তে দেখা গেছে যে সহ-পাইলট “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” চালানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরিস্থিতি, হামলার উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগসূত্র ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
হামলার সময় ছুরিকাঘাতে আহত ক্যাপ্টেন মাচ্চারকে প্রথমে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে বিমানে করে আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইউএই-তে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক পাইলটটি সুস্থ আছেন এবং ভালোভাবে সেরে উঠছেন।
মাচ্চার নিজেও বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমি সুস্থ হয়ে উঠব এবং আবার সম্পূর্ণ ফিট ও সুস্থ হয়ে যাব।”