• ঢাকা বুধবার
    ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
সিবিএসের পূর্বাভাস

ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেটেরও নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১১:০১ এএম

ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেটেরও নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে যাচ্ছে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ।

সিবিএস নিউজের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদে অন্তত ২১৮টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬০টি আসন পেতে পারে। এর মধ্য দিয়ে চার বছর পর আবারও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রগতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ২১৮টি আসন প্রয়োজন। ফলে সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেই সংখ্যায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার পথে রয়েছে দলটি।

তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ এখনো নিশ্চিত নয়। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন পেয়েছে দলটি। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন। সাউথ ক্যারোলাইনায়ও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ও নীতির প্রতি ভোটারদের মনোভাব যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে তারা এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

এ ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা উচিত কংগ্রেসের।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের দুটি কক্ষ-প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট। প্রতিনিধি পরিষদে মোট আসন ৪৩৫টি। অন্যদিকে সিনেটের আসন ১০০টি।

নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ২১৯টি, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। দুটি আসন শূন্য ছিল। সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি। ডেমোক্র্যাট ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যদের আসন ছিল ৪৭টি।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব ও সরকারি কার্যক্রমের ওপর নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের উদ্যোগও নিতে পারবে তারা।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে বিচারকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে দলটি।

ফলে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসনামলে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ আরও বাড়াতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল শুধু ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ের রাজনীতিতেই নয়, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরেও প্রভাব ফেলতে পারে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত অবস্থান দলটির জন্য রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে এখনই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আলাস্কা, আইওয়া, মিশিগান, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা ও ফল নির্ধারণের অপেক্ষা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পথে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নির্ভর করছে সিনেটের বাকি আসনগুলোর ফলের ওপর।

সূত্র: রয়টার্স, সিবিএস

আর্কাইভ