• ঢাকা বৃহস্পতিবার
    ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

লিটনের ‘অদ্ভুত’ ব্যাটিংয়ের পর ২৭২ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

লিটনের ‘অদ্ভুত’ ব্যাটিংয়ের পর ২৭২ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রিজে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার লিটন কুমার দাস। তবুও বারবারই ওভারের শুরুতে সিঙ্গেল রান নিয়ে নন-স্ট্রাইক প্রান্ত বেছে নিচ্ছিলেন তিনি। ফল যা হওয়ার তাই হলো, স্ট্রাইকে যাওয়া সতীর্থরা একে একে ফেরার পর বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭২ রানে গুটিয়ে গেছে। টেল-এন্ডার চার সতীর্থকে বিদায় নিতে দেখা লিটন অপরাজিত ছিলেন ৩৪ রানে।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেইডেন সিলসের লাফিয়ে ওঠা একটি বল লিটনের কনুইয়ে আঘাত করেছিল। বেশ কয়েকবার ফিজিও ডেকে প্রাথমিক চিকিৎসাও নিয়েছেন তিনি। সে কারণেই হয়তো দ্রুত স্ট্রাইক প্রান্ত পরিবর্তনে তাড়া ছিল লিটনের। যদিও তার এই কৌশল অনেকের কাছে অদ্ভুতই ঠেকেছে। সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও তিনশ’র ধারেকাছে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান টেস্টে চতুর্থ ফাইফার নিয়েছেন।

শেষ ১০ রানে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়েছে। আর আজ (বৃহস্পতিবার) দ্বিতীয় দিনে ৫৯ রান করতেই স্বাগতিকরা হারিয়েছে ৭ উইকেট। এর আগে প্রথম দিন শেষে নাজমুল হোসেন শান্ত’র দল ৩ উইকেটে ২১৩ রান করেছিল। আলোকস্বল্পতায় আগেভাগেই খেলা শেষ হওয়ায় পুরো দিনে হয়েছে কেবল ৭৪ ওভার।

দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই অবশ্য বাংলাদেশ নড়বড়ে ছিল। ৮ রান যোগ করতেই ফিরেছেন দুই ব্যাটার। অবশ্য তার আগে ২২০ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি ‍পূর্ণ করেন আগেরদিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা সাদমান ইসলাম। এরপর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে টেস্টে অভিষেক হওয়া স্পিনার জশুয়া বিশপের বলে তিনি এলবিডব্লিউ হয়েছেন। মিডল ও অফ স্টাম্প লাইনে থাকা বল প্যাডে আঘাত করার পর রিভিউ নিলেও কাজ হয়নি।

১৭ ইনিংস এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর সেঞ্চুরি পাওয়া সাদমানের ইনিংস থামল অল্প সময়ের ব্যবধানে। ২২০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ২৩৪ বলে ১১ চারে ১০৫ রানে থেমেছে তার ব্যাট। তার খানিক বাদেই ফিরলেন তাওহীদ হৃদয়ও। ৪২ রান করে তিনিও বিশপের বলে বোল্ড হয়েছেন। আগেরদিন ক্র্যাম্পের শিকার হওয়ায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল হৃদয়কে। সাদমানের পর ক্রিজে এসে তিনি আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি।

এরপর থিতু হতে পারেননি বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটার। লিটন ও মেহেদি হাসান মিরাজের জুটি স্থায়ী হয়েছে ৩২ রান পর্যন্ত। মিরাজ ওয়ারিকানের আর্ম বলে বোল্ড হয়েছেন ১৫ রানে। নতুন বল পেয়ে ক্যারিবীয় পেসাররা গতি ও সুইং কাজে লাগিয়েছেন। শামার জোসেফের ১৪১.২ কিমি গতির বলে নাঈম হাসান ৫ রান করে স্লিপে ক্যাচ দেন। তার বল পুরোপুটি মোকাবিলা না করে লিটন সিঙ্গেল নিয়ে হাসান মাহমুদকে স্ট্রাইকে পাঠান। ৬ রান করে তিনিও জোসেফের বলে ক্যাচ দিয়েছেন।

একইভাবে স্ট্রাইকে গিয়ে তাইজুল ইসলাম ওয়ারিকানের বলে কানা লাগিয়ে ক্যাচ দেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে নামা শরিফুল ইসলাম পরের বলেই এলবিডব্লিউ। ফলে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ ২৭২ রানেই। ওয়ারিকান টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফাইফার (৫) নিয়েছেন। এ ছাড়া শামার জোসেফ ও জশুয়া বিশপের শিকার ২টি করে।

আর্কাইভ