প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
আজকের শিক্ষার্থী-ইন্টার্নদের হাত ধরেই চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এসব কথা বলেন।
চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা প্রতিদিনই মানুষের অনেক আনন্দ-বেদনার সাক্ষী। যারা চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত কিংবা চিকিৎসক হওয়ার জন্য অধ্যয়নরত, প্রতিটি মানুষের মনোজগতে আপনাদের অবস্থান তাদের সুস্থ জীবনের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ উপলব্ধি থেকেই সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের একটি অনুষ্ঠানে আমি বলেছিলাম, চিকিৎসকগণই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। চিকিৎসকগণই রোগে-শোকে কাতর মানুষটির পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন। একজন চিকিৎসকের উপদেশ ও আন্তরিক ব্যবহারও একজন রোগীর কাছে ওষুধের মতো কার্যকরী হয়ে ওঠে। সুতরাং একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি।”
হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
‘Prevention is better than cure’—এই নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায়। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর বিকাশ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আগাম স্বাস্থ্যপরামর্শ পেলে অনেক রোগ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরামর্শ পৌঁছে দিতে সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী হেলথ কেয়ারার পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষাখাতের পর এবারই দেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বছর জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের পরিমাণ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এটি জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সব উপজেলায় বিদ্যমান ৩১ থেকে ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলো পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি সব হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বিশেষায়িত শিশুচিকিৎসা রাজধানীকেন্দ্রিক না থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজলভ্য হবে।
মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিজ্ঞানসম্মত অপসারণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আসুন, আমরা সবাই মিলে মেডিক্যাল বর্জ্য বিজ্ঞানসম্মতভাবে অপসারণ এবং হাসপাতালগুলোকে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি।”