প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি বিমান তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে কাস্টমস হাউস, ঢাকা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার ( ৩ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেট৫২৩ ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে বিমানটিতে বিশেষ তল্লাশি চালানো হয়।
কাস্টমস হাউস, ঢাকার কর্মকর্তারা জানান, তল্লাশির সময় বিমানটি যাত্রীশূন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে বিমানটিতে বিশেষ তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ১৯এ নম্বর আসনের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কিছু বস্তু দেখতে পাওয়া যায়।
পরে সেগুলো উদ্ধার করে কাস্টমস হলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি করার পর কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্যাকেট থেকে ৮০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, স্বর্ণের বারগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বিমানের আসনের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় অত্যন্ত কৌশলে স্বর্ণের বারগুলো লুকিয়ে সরকারি নির্ধারিত শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে দেশে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এসব স্বর্ণ বিমানবন্দরের সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল।
কাস্টমস হাউস, ঢাকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তৎপরতায় স্বর্ণ চোরাচালানের এ চেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়।
অভিযানটি কাস্টমস হাউস, ঢাকা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে পরিচালনা করেন। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা করা হয়েছে।
অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্য নিষ্পত্তি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী, মূল্যবান ধাতু হিসেবে উদ্ধার করা স্বর্ণের বারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দেশীয় অর্থনীতি রক্ষা ও স্বর্ণসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস হাউস, ঢাকা তৎপর রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।