• ঢাকা সোমবার
    ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস: ১০০ গুণী শিক্ষক পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর সম্মাননা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস: ১০০ গুণী শিক্ষক পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর সম্মাননা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

আজ ৫ অক্টোবর ২০২৬, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে নগদ দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ তুলে দেবেন।

এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১০০ জন নির্বাচিত শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দেওয়া হচ্ছে। আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এ সম্মাননা দেওয়া হতো। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ জন করা হয়েছে।

শিক্ষকদের অবদান স্মরণ করা এবং তাদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়াই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। ইউনেসকোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য—‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন।’

এ বছর (২০২৬ সাল) দিবসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এ বছর শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক সুপারিশমালার ৬০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই সুপারিশে শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব, পেশাগত প্রস্তুতি, নিয়োগ, কর্মপরিবেশ ও শিক্ষাদানের পরিস্থিতির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বর্তমানে শিক্ষকদের পেশা নতুন নানান ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতির মতো বিষয় শিক্ষকদের কাজের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। এ কারণে শিক্ষকদের সামাজিক, পেশাগত ও অর্থনৈতিক মর্যাদা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইউনেসকো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেই সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের এবার এ স্বীকৃতির আওতায় আনা হয়েছে। এবার প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিক স্তরে ২০ জন, কলেজে ২৫ জন এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া মেডিক্যাল কলেজে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনজন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনজন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় সম্মাননা পাবেন আরও পাঁচজন। সব মিলিয়ে এবার জাতীয় পর্যায়ে মোট ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গঠিত পৃথক অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে গুণী শিক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। পরে জাতীয় পরিচালনা কমিটি এসব তালিকা যাচাই-বাছাই করে ১০০ জন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে।

বাংলাদেশে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও জোরালো হয়েছে। ২০২২ সালে দেশব্যাপী শিক্ষক দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে দিবসটি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আয়োজনও হয়। পরে মন্ত্রিসভার বার্ষিক ক্যালেন্ডারে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব শিক্ষক দিবস শুধু শিক্ষকদের সম্মান জানানোর দিন নয়। এ দিন শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার, কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় তাদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়। শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের ইতিহাস আরও পুরোনো। ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর প্যারিসে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও ইউনেসকোর যৌথ বিশেষ সম্মেলনে শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত ঐতিহাসিক সুপারিশমালা গৃহীত হয়। এর ২৮ বছর পর ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর আলাদা প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে শিক্ষকদের ভূমিকা, অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জকে সামনে আনা হয়।

এ বছর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের বৈশ্বিক আয়োজন হচ্ছে ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেসকোর সদর দপ্তরে। সেখানে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হবে। একই অনুষ্ঠানে শিক্ষক উন্নয়নে ইউনেসকো-হামদান পুরস্কারও দেওয়া হবে।

বাংলাদেশেও জাতীয় পর্যায়ের সম্মাননার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এবার ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের অবদানকে আরও বিস্তৃত পরিসরে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ