প্রকাশিত: অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়; বরং জনগণের সুরক্ষার জন্যই সাইবার সিকিউরিটি আইন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আগ্রহ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা যদি কোনো কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, ভালো সাংবাদিকরা লেখা বন্ধ করে দিতে পারেন এবং নতুন ভালো সাংবাদিকও গড়ে উঠবে না। সে কারণে বিষয়টি প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
তিনি বলেন, এর পাশাপাশি মিডিয়া হাউজের মালিকদেরও এসব বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে। সরকার কোনো ঘোষণা দিলেও সংশ্লিষ্ট মিডিয়া হাউজের মালিকরা যদি তা বাস্তবায়নে আন্তরিক না হন, তাহলে সেই উদ্যোগের কোনো প্রতিফলন পাওয়া যাবে না।
সাংবাদিকদের সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাইবার সিকিউরিটি আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য করা হচ্ছে না; বরং বাংলাদেশের জনগণকে সাইবার জগতের বিভিন্ন ধরনের হয়রানি, অপতথ্য ও গুজব থেকে নিরাপদ রাখার জন্য এই আইন করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে এ বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে, নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে। এ নিয়ে কয়েক দফা পরামর্শও করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে মূল বিষয় হচ্ছে মানসিকতা বা মাইন্ডসেট। কোনো সরকার কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইলে তার জন্য আইন প্রয়োজন হয় না। অতীতে ১৭ বছর এমনটি হয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। গণমাধ্যম কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করে না, করছে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে ১৭ বছর সংবাদপত্র, সাংবাদিক ও মিডিয়া একটি জালের মধ্যে আটকে ছিল। তখন তাদের যা বলা হতো, তাই করতে হতো এবং বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হতো।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার প্রশ্নই ওঠে না। বাংলাদেশের জনগণকে ‘সেফ ফিল’ করানো এবং জনগণের বাকস্বাধীনতাসহ গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা ও সব ধরনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে।
এ সময় গণমাধ্যমের বিষয়ে সাংবাদিক নেতাদের একটি প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরামর্শের পর্যায়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে, কোনো পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল বা নিবন্ধিত পোর্টালে এমন কিছু প্রকাশিত হলে, যা ভুলক্রমেও সাইবার সিকিউরিটি আইনের ব্যত্যয় ঘটায়, সেই সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকে আইনের আওতায় আনার আগে আদালতের অনুমতি নেয়ার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং এ বিষয়ে নমনীয়ভাবে দেখা হচ্ছে। কীভাবে বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং এর ভাষা বা ওয়ার্ডিং কেমন হবে, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি ও হেনস্তার বিষয়টি উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে মানুষকে হেনস্থা করা হয়। এর ফলে অনেকে হয়রানির শিকার হয়ে সুইসাইডাল পর্যায়েও চলে যান। এসব থেকে বাংলাদেশের জনগণকে নিরাপদ রাখার জন্য ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অনেক সাংবাদিকের নামেও ভুয়া অপতথ্য ও গুজব ছড়াতে দেখা গেছে। সাংবাদিকরাও বাংলাদেশের জনগণের অংশ। তাই তাদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার জন্যও পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, যে বিষয়ে সাংবাদিক নেতারাও একমত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
সাংবাদিক নেতাদের দাবিগুলো লিখিত আকারে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকরা তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে দিলে সরকারের জন্য তা বাস্তবায়ন এবং কাজ এগিয়ে নেয়া আরও সহজ হবে। বৈঠকে সাংবাদিক নেতাদের বক্তব্য থেকে অনেক বিষয় নোট করেছেন বলেও জানান তিনি।