প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিমানের দীর্ঘমেয়াদি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ পরিকল্পনায় বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসও যুক্ত হলো।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনের উৎসব হলে ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয়। চুক্তির আওতায় চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ কেনা হবে।
চুক্তিতে বিমানের পক্ষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউর্গেন ওয়েস্টারমেয়ার সই করেন।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
থাকছে দীর্ঘ ও মাঝারি দূরত্বের উড়োজাহাজ
চুক্তির চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ মূলত দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ছয়টি এ৩২১নিও আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুট এবং আঞ্চলিক গন্তব্যে বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমানের বহরে বড় ধরনের বৈচিত্র্য আসবে। বর্তমানে বিমানের অধিকাংশ জেট উড়োজাহাজই বোয়িংয়ের তৈরি। এর আগে বিমান এয়ারবাসের উড়োজাহাজ পরিচালনা করলেও দীর্ঘদিন ধরে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহে বোয়িংয়ের ওপরই বেশি নির্ভরতা ছিল।
সরবরাহ নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এয়ারবাস উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩৩ সাল থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরবরাহের সময়সূচি এগিয়ে এনে ২০৩০ সালের আগেই উড়োজাহাজ পাওয়া শুরু করতে চায়।
মন্ত্রী এর আগে জানিয়েছিলেন, বিমানের বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়েও সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।
৩৫ উড়োজাহাজের বড় বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা
এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজের পাশাপাশি এর আগে মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করেছে বিমান। চলতি বছরের এপ্রিলে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পর সেপ্টেম্বরে আরও ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করা হয়। ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
বোয়িংয়ের ২৫টি এবং এয়ারবাসের ১০টি মিলিয়ে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পরিকল্পনায় মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে এয়ারবাসের চারটি এ৩৫০-৯০০ ও ছয়টি এ৩২১নিও এবং বোয়িংয়ের বিভিন্ন মডেলের ওয়াইড-বডি ও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজ রয়েছে।
বাড়বে আন্তর্জাতিক রুটের সক্ষমতা
বিমান কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা ও আসন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে এ৩৫০-৯০০-এর মতো ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ দীর্ঘপাল্লার রুটে ব্যবহারের মাধ্যমে বিমানের দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, এ৩২১নিও তুলনামূলকভাবে কম দূরত্বের রুটে পরিচালনার উপযোগী হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগতে পারে।
নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের সক্ষমতা ধরে রাখতে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
এয়ারবাসের সঙ্গে এ চুক্তিকে বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে বিমানের বহর ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে আরও বৈচিত্র্য আনার সুযোগ তৈরি হবে।