প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল দায়েরের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা বলেছেন, ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।
সোমবার (০৫ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এসে আপিল করেন তিনি।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি তার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করতে হলে এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দিতে হয়।
দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের মধ্যে জারার জমা দেওয়া তালিকা থেকে দুইজন ভোটারের তথ্যে গরমিল পাওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
আপিল দায়েরের পর এনসিপি থেকে সদ্য পদত্যাগী এই নেতা বলেন, আমি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। সেটা গৃহীত হয়নি। সেই সিদ্ধান্তকে আমরা আপিল করেছি।
দেড়দিনের মাথায় ৫ হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার জন্য স্বাক্ষর দিয়েছেন। ভালোবাসা দিয়েছেন। নিজেরাই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বুথ করেছেন। এটার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।
তিনি বলেন, সমর্থকরা চান আমি যেন ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। সেজন্য আমরা আপিল করেছি, আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।
জারার আইনজীবী আরমান হোসেন এরপর সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আরপিও ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী আজকে আপিল করেছি। আইনগতভাবে আমরা আশা রাখতে পারি এই আপিল আমরা জয়ী হয়ে আসবো। আশা করছি জারা জনগণের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী এক শতাংশ ভোটারের লিস্টটা আমরা জমা দিয়েছি। সেটা শতভাগ সঠিক। যেসময় ভোটার লিস্ট আমরা সংগ্রহ করেছিলাম, ইসির ওয়েবসাইট কাজ করছিল না, যেটার মাধ্যমে আমরা ভেরিফাই করতে পারবো যে যিনি আমাদের এখানে স্বাক্ষর করেছেন উনি আদতে ঢাকা-৯ আসনের ভোটার কী না..। যার স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন হয়েছে তিনি তার ভোটার আইডি কার্ডে ভোটার এলাকা হিসেবে ঢাকা-৯ আসনের কথা উল্লেখ ছিল। যেহেতু ওটা আমাদের ভেরিফাই করার সুযোগ ছিল না। সে জায়গা থেকে আমাদেরও সমস্যাটা সমাধান করতে হচ্ছে।
তফসিল অনুযায়ী, গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো বাছাই করেছেন। ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আপিল আবেদন। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।