• ঢাকা রবিবার
    ১৭ মে, ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক উৎসব

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১১, ২০২১, ০৫:০৩ পিএম

কোল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক উৎসব

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

কোল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক উৎসবে ঢোল-মাদলের তালে তালে মাতৃভাষার গানের সঙ্গে নাচলো ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ১০টি সাংস্কৃতিক দল। শনিবার (১১ ডিসেম্বর) তাদের নাচে-গানে মুখর হয়ে উঠেছিল রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মোহনপুর ইউনিয়নের বাবুডাইং আদিবাসী আলোর পাঠশালা প্রাঙ্গণ।

কোল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব হলেও এতে সাঁওতাল ও মাহালে জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক দলগুলো অংশ নেয়। ছিল আলোচনা অনুষ্ঠানও।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে কোল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব অনুষ্ঠান ও সামাজিক সচেতনতা শীর্ষক মতবিনিময়, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে সামার ইনস্টিটিউট অব লিংগুইস্টিক (এসআইএল) ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। এতে সহযোগিতা করে রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি ও ন্যাশনাল এজেন্সি ফর গ্রিন রিভ্যুলেশন (এনএজিআর)।

রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানে আলম। অন্যান্যের মধ্যে নবনির্বাচিত মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম, এসআইএলের রাজশাহী এরিয়া ম্যানেজার নিকোলাস মুরমু, এনএজিআরের প্রকল্প সমন্বয়কারী শ্যামসন সরেন, কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নেত্রী রুমালি হাসদা, কোল ছাত্র জয়ন্ত সরেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন।

দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির নির্বাহী কমিটির সদস্য জগেন্দ্রনাথ সরেন, কলিস্তিনা হাঁসদা, চিত্তরঞ্জন সরদার, সুসেন কুমার শ্যামদুয়ার, এনএজিআরের কর্মসূচি কর্মকর্তা প্রদীপ হেমব্রম, প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক কানাই চন্দ্র দাস, প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর প্রমুখ। উপস্থাপনা করেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচারাল একাডেমির সঙ্গীত প্রশিক্ষক মানুয়েল সরেন।

বক্তারা বলেন, ‘বরেন্দ্রভূমির গহিনে বাস করা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোল সম্প্রদায় উন্নয়নের ধারায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে তারা বঞ্চিত। বেশির ভাগ লোকই বাস করে খাসজমিতে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধা তারা পাননি। এখানকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবৃত্তিসহ বিভিন্ন সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হয়ে আসছে। এসব সহায়তা পাওয়া তাদের সাংবিধানিক অধিকার। কাউকে পেছনে রেখে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

শেষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলগুলোকে নিয়ে নাচ-গান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়।

জেডআই/এম. জামান

আর্কাইভ