প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ১২:০৫ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার মূল সুর হলো—রাষ্ট্রে জনগণের নিরাপত্তা, আস্থা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, গুম-অপহরণ, ভয় ও অনিশ্চয়তার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে মানুষ এখন এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে আইনের শাসন থাকবে, মানবিকতা থাকবে এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। এই প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, বিশেষ করে পুলিশের।
পুলিশ কেবল একটি বাহিনী নয়; এটি রাষ্ট্রের মুখ। সাধারণ মানুষ যখন বিপদে পড়ে, প্রথম আশ্রয় খোঁজে পুলিশের কাছেই। তাই পুলিশের আচরণ, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা সরাসরি জনগণের রাষ্ট্রবোধকে প্রভাবিত করে। অতীতে নানা ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে—এ বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ফলে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন অনেক সহজ হয়ে যায়। এই আস্থা তৈরি হয় আইনের সমান প্রয়োগ, মানবিক আচরণ, দুর্নীতিমুক্ত কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ কখনো ভয় বা আতঙ্কের প্রতীক হতে পারে না; বরং হতে হবে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক।
বর্তমান সময়ে মাদক, কিশোর গ্যাং, সাইবার অপরাধ ও মব সহিংসতার মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। শুধু প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন নয়, প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তনও। জনগণ চায়—পুলিশ হবে জনবান্ধব, সংবেদনশীল এবং জবাবদিহিমূলক।
বাংলাদেশ পুলিশ আন্তর্জাতিক পরিসরেও সুনাম অর্জন করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অবদান নিঃসন্দেহে গৌরবের। এখন সেই পেশাদারিত্ব দেশের অভ্যন্তরেও আরও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি দেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ, গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।
পুলিশ সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি ও নতুন অঙ্গীকারের উপলক্ষ হোক। জনগণের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়—তারা শুধু এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে ভয় নয়, ন্যায়বিচার থাকবে; ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, আইনের শাসন থাকবে; আর নাগরিক মর্যাদা হবে সর্বাগ্রে। সেই রাষ্ট্র গঠনে পুলিশের ভূমিকা নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।