• ঢাকা বুধবার
    ২৯ মে, ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ইসরাইলে হামলার রাতে অন্তত নয়টি দেশ সম্পৃক্ত ছিল সামরিক তৎপরতায়

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৪, ০৭:৪০ পিএম

ইসরাইলে হামলার রাতে অন্তত নয়টি দেশ সম্পৃক্ত ছিল সামরিক তৎপরতায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরাইলে হামলার রাতে অন্তত নয়টি দেশ সম্পৃক্ত ছিল  সামরিক তৎপরতায়। ইরান ছাড়াও ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া হয় ক্ষেপণাস্ত্র। সেগুলোকে প্রতিহত করেছিল ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জর্ডান।

প্রতিশোধ নিতে প্রথমবারের মতো, ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে শনিবার রাতে হামলা চালিয়েছে ইরান।

শনিবার মধ্যরাতে, ইরানি হামলার মুখে সক্রিয় হয়ে ওঠে ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে হয় ইসরায়েলের বাসিন্দাদের।

মুহুর্মুহু আক্রমণ আর সেসব আক্রমণ প্রতিহত করা বা ‘ইন্টারসেপশন’-এর সময়টাতে আলোর ঝলকানি রাতের আকাশকে আলোকিত করে তুলছিল।

ইসরায়েলের মিত্ররাও অবশ্য সক্রিয় ছিল। ইসরায়েলের সীমানায় প্রবেশের আগেই অনেক ড্রোন এবং মিসাইল ভূপাতিত করে তারা।

রোববার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান ইসরায়েলের দিকে তিনশো’র বেশি ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হ্যাগরির একটি বিবৃতি টেলিভিশনে প্রচারিত হয়।

তাতে বলা হয়, আক্রমণে ১৭০টি ড্রোন ও ৩০ টি ক্রুজ মিসাইল অন্তর্ভূক্ত ছিল। সেগুলোর কোনোটিই ইসরায়েলি সীমানায় প্রবেশ করতে পারেনি। একইসাথে ১০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে অল্প কিছু ইসরায়েল অব্দি পৌঁছায়।ইরান থেকে ইসরায়েলের নিকটতম দূরত্ব ১০০০ কিলোমিটার (৬২০ মাইল)। এই দূরত্ব পেরোতে ইরাক, সিরিয়া এবং লেবানন পাড়ি দিতে হয়।

শনিবার রাতে ইরানের রিভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) ড্রোন এবং মিসাইল হামলার কথা জানায়। ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের আকাশসীমার ওপর দিয়ে ইসরায়েল অভিমুখে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যেতে দেখা গেছে।

আইআরজিসি’র তথ্য, ড্রোন পাঠানোর প্রায় এক ঘণ্টা পর ব্যালিস্টিক মিসাইলের হামলা চালান তারা। যাতে, ধীরগতির ড্রোন আর দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক মিসাইল মোটামুটি কাছাকাছি সময়েই আঘাত হানে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ বলছে, ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া কয়েক ডজন মিসাইল এবং ড্রোন ঠেকিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনীগুলো।

লেবাননের ইরান-সমর্থিত হেজবুল্লাহও জানায়, গোলান হাইটস্-এ অবস্থিত ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটিতে দুই দফায় রকেট হামলা চালিয়েছে তারা। সিরিয়ার কাছ থেকে মালভূমিটি দখল করে নিয়েছিল ইসরায়েল। কিন্তু, তাদের কর্তৃত্বের অনুকূলে তেমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি।

“৯৯ শতাংশের কাছাকাছি আক্রমণই হয় ইসরায়েলের আকাশসীমার বাইরে অথবা সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরে প্রতিহত করা হয়েছে,” বলছিলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল হ্যাগারি। হামলায় ব্যবহৃত ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইলগুলোর গতিপথ সরলরৈখিক। আর, বেশিরভাগ ব্যালিস্টিক মিসাইলের গতিপথ ছিল ধনুকের মতো বাঁকানো। এতে, নিচের দিকে নামার সময় অভিকর্ষের টানে তাদের গতি বহুগুণ বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, যত ড্রোন এবং মিসাইল ইরানের তরফ থেকে রোববার নিক্ষেপ করা হয়েছিল মার্কিন বাহিনী তার “প্রায় সবগুলোকেই নামাতে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে”। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ওই নজিরবিহীন হামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বিমান ও রণতরী মোতায়েন করে।

পরে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড(সেন্টকম) একটা হালানগাদ তথ্য প্রকাশ করে। যাতে উল্লেখ করা হয়, তাদের বাহিনীগুলো ৮০টির বেশি ড্রোন এবং ছয়টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করেছে। এগুলোর মধ্যে একটা ব্যালিস্টিক মিসাইলকে এর উৎক্ষেপণ যানে(লঞ্চার) থাকা অবস্থায়ই ধ্বংস করা হয়। ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকাটিতে আরো সাতটি ড্রোনকেও নিক্ষেপের আগেই ভূমিতে থাকা অবস্থায় ধ্বংস করে তারা।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ওই অঞ্চলের গোপন মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে গুলি করেও বেশ কিছু ইরানি ড্রোন নামায় দেশটির সেনারা। সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের জর্ডান সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল ড্রোনগুলো ।যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনীর টাইফুন জেটগুলোও ইরানের কিছু ড্রোনকে ভূপাতিত করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। মি. সুনাক বলেন, ইরানের আক্রমণ “বিপজ্জনক এবং অপ্রয়োজনীয় বাড়াবাড়ি যার তীব্র প্রতিবাদ জানাই আমি।”

জর্ডানের সাথে ইসরায়েলের শান্তি চুক্তি আছে। আবার, গাজায় হামাসের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধের ঘোর বিরোধী দেশটি। তারাও নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করা কিছু ড্রোনকে প্রতিহত করেছে। ফ্রান্স আকাশে টহল জারি রাখতে সহায়তা করেছে। তবে তারা কোনো ড্রোন বা মিসাইলকে ঠেকিয়ে দিয়েছে কিনা সেটা পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। (বিবিসি)

আর্কাইভ