প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
রাজধানীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে ভেনেজুয়েলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে দেশের তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন নিকোলাস মাদুরো।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কারাকাসে হামলার লক্ষ্য হলো ‘ভেনেজুয়েলার কৌশলগত সম্পদ, বিশেষ করে তেল ও খনিজ দখল করা’ এবং ‘দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে জোরপূর্বক ভেঙে দেয়া।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ‘জাতীয় ভূখণ্ডে বহিঃসংকট’ ঘোষণা করে ডিক্রি স্বাক্ষর করেছেন এবং এর বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সব জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ‘যথাযথ সময়ে এবং যথাযথ পরিস্থিতিতে’ বাস্তবায়ন করতে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা দেশের ‘সব সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা সক্রিয়ভাবে মোবিলাইজেশন পরিকল্পনা চালু করে এবং এই সাম্রাজ্যবাদী হামলার নিন্দা জানায়’।
বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলা সরকার দেশটির সব সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে সামরিক এবং সাম্রাজ্যবাদী হামলার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিস্ফোরণ এবং বিমান হামলার খবর সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবগত।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমানের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পর শহরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বছরের শেষ গত বুধবারও (৩১ ডিসেম্বর) আরও চাপ বাড়াতে দেশটির তেল খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। আর এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় হামলা ঘটনা ঘটলো।