• ঢাকা সোমবার
    ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির জবাবে ইউরোপের ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের হুমকি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির জবাবে ইউরোপের ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গ্রিনল্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে ইউরোপ। ডেনমার্কের প্রতি সংহতি জানিয়ে একযোগে ‍‍`ট্রেড বাজুকা‍‍` নামে পরিচিত অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান জার্মান এমইপি বের্ন্ড লাঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‍‍`এ ধরনের পরিস্থিতির জন্যই অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর এখনই এটি ব্যবহার করা হবে, যদি ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে হুমকি দেয়া বন্ধ না করেন। 

সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১০৮ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের কথা ভাবছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালে গৃহীত ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা তথাকথিত ‍‍`ট্রেড বাজুকা‍‍` ব্যবহারের কথাও বিবেচনায় রয়েছে।

এই ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অনড় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ককে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় ফেলেছে।

সম্প্রতি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ড দখলের বিরোধিতা করলে শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে ইউরোপের আটটি দেশ ডেনমার্কের পাশে অবস্থান নেয়। দাবি, এই হুমকি ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ককে ভয়ংকর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। 

ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই কেনাবেচার বিষয় নয়।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, ইউরোপ যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক জবরদস্তির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় প্রস্তুত। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‍‍`শুল্কের হুমকি সম্পর্ক নষ্ট করে এবং একটি বিপজ্জনক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করে। আমরা সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।‍‍` 

ট্রাম্প এরইমধ্যে হুমকি দিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের এসব দেশের ওপর ১০ শতাংশ এবং জুন থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়।

এদিকে ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। তবে ডেনমার্ক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না।

এর আগে, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ডেনমার্কের বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদ জানান। স্লোগান ওঠে, ‍‍`গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়‍‍`।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের চাপ অব্যাহত থাকলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকতে পারে। এই সংঘাত শুধু অর্থনীতিতেই নয়, নিরাপত্তা জোট ন্যাটোর ভবিষ্যতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আর্কাইভ