প্রকাশিত: মে ৮, ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো শান্তি চুক্তি হলেও ‘হরমুজ প্রণালি’ চিরকাল ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা আমোস হোচস্টাইন। খবর মিডেল ইস্ট আইর।
ব্লুমবার্গের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাস্তবসম্মত ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর থেকে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। হোচস্টাইন সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন হয়তো চুক্তির কাগজে জলপথ উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিশ্বাস করবে, কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো তা বিশ্বাস করবে না; কারণ তারা জানে এই পয়েন্টে ইরানের হাতে কার্যত ‘ভেটো’ ক্ষমতা রয়েছে।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চললেও ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধ এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই উত্তেজনার প্রভাবে বর্তমানে কুয়েত ও বাহরাইনের তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং কাতার তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিতে জুন পর্যন্ত ‘ফোর্স মেজার’ বা জরুরি অবস্থা জারি করেছে। তবে সৌদি আরব ও আমিরাত বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে আংশিক তেল রপ্তানি সচল রাখতে পেরেছে। ইরাকও সিরিয়া ও তুরস্কের মাধ্যমে বিকল্প পথে তেল পাঠানোর চেষ্টা করছে।
হোচস্টাইন আরও জানান, বিশ্ববাজারে তেলের প্রকৃত দামে বিশাল অসংগতি দেখা দিয়েছে। কাগজে-কলমে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১১০ ডলার দেখালেও বাস্তবে তা ১৫০ থেকে ১৭০ ডলারে কিনতে হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার মতো দরিদ্র দেশে এই দাম ব্যারেল প্রতি ২৮৬ ডলারে পৌঁছেছে।
তিনি সতর্ক করেছেন যে, দরিদ্র দেশগুলোতে শুরু হওয়া এই চরম জ্বালানি সংকট পর্যায়ক্রমে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড হয়ে জাপান, কোরিয়া এবং শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলোতেও হানা দেবে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ইরানকে এড়িয়ে বিকল্প অবকাঠামো গড়ার দিকে ঝুঁকছে।