প্রকাশিত: মে ৮, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধারা যদি দেশের স্বার্থের বিপক্ষে যায়, তা পরিবর্তনের সুযোগ চুক্তির মধ্যেই আছে। তবে বিষয়টি ইচ্ছেমতো পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে সিলেটের বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
এ নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি হঠাৎ করে একতরফাভাবে পরিবর্তন বা বাতিল করা যায় না। তবে কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের সময় যদি বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কিছু প্রতিভাত হয়, তাহলে সেই চুক্তির ধারার মধ্যেই সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চুক্তি হয় দুটি দেশের মধ্যে। যদি দুজন ব্যক্তির মধ্যে চুক্তি হতো, তাহলে হয়তো চট করে সেটি রদবদল করা যেত। কিন্তু দুটি রাষ্ট্র দুটি সার্বভৌম সত্তা। তারা যখন চুক্তি করে, তখন সেটা ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষের স্বার্থই বিবেচনায় রাখা হয়। কিছু ধারা এক পক্ষের জন্য অনুকূল হয়, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। এভাবেই দুই দেশের মধ্যে একটি উইন-উইন সিচুয়েশন তৈরির চেষ্টা থাকে। চুক্তি যেটি হয়েছে, সেটির বাস্তবায়নের সময় যদি এমন কিছু সামনে আসে বা প্রতিভাত হয় যে এটি বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূলে নয়, তাহলে সেই ধারা সংশোধনের সুযোগ চুক্তির ভেতরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বাস্তবতা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিতে হয়। কারণ, রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি বিষয়।’
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ সময় হুঁশিয়ারি দেন, জ্বালানির কারণে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ বাজার প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না।
পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তা সাময়িক বলেও দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।