• ঢাকা সোমবার
    ২৯ জুন, ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

স্পিকারের দায়িত্ব শেষেই রাজনীতি থেকে অবসরের ভাবনা হাফিজ উদ্দিনের

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

স্পিকারের দায়িত্ব শেষেই রাজনীতি থেকে অবসরের ভাবনা হাফিজ উদ্দিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ; মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকার জন্য বীর বিক্রমের খেতাব পান। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে যুক্ত হন রাজনীতিতে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা-কারাবরণ করেছেন। ছিলেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য। ভোলা থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন সাতবার। দায়িত্ব পালন করেছেন বাণিজ্য, পানি সম্পদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। এখন দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকারের।

তিনি জানালেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে যেদিন তাকে স্পিকার মনোনীত করা হয়, সেদিন সকালেই এই খবর জানতে পারেন।

এখন স্পিকার হিসেবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। জানান, বিএনপির সদস্য হলেও দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থাকতে চান তিনি।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বললেন, স্পিকারের ভূমিকা হলো ফুটবলের রেফারির মতো। দুই দল খেলবে, তারা যাতে ফাউল না করতে পারে বা ফাউল করলে আমি যাতে হলুদ-লাল কার্ড দেখাতে পারি। সেই ধরনের প্রস্তুতি আমার আছে। চেষ্টা করি, যাতে নিরপেক্ষ থাকতে পারি। দলের জন্য দলকানা যাতে না হই এবং দলের বোঝা বহন না করে সরকার ও বিরোধী দল— উভয়ের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করি।

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংসদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন স্পিকার। এবার কারচুপির মাধ্যমে নয়, জনভোটের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্যরা। আগের চেয়ে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যানমুখী হবে ত্রয়োদশ সংসদ, এমন প্রত্যাশা করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, অন্য কোনো সংসদের সদস্যরা এত ত্যাগ-তিতিক্ষা বা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসেনি। যেটি এই সংসদে এসেছে। সেজন্য আমার আশা যে এ সংসদটা অতীতের সব সংসদকে ছাপিয়ে যাবে এবং জনকল্যাণে অতীতের সংসদের চাইতে ভালো রেকর্ড, ভালো পারফরম্যান্স থাকবে তাদের। অতীতে সংগ্রাম ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। এখন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই গণতন্ত্রের সুফল যাতে জনগণ পায়, এজন্য সরকারি দল-বিরোধী দল উভয়ই সচেষ্ট থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রায় ৫৫ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন হাফিজ উদ্দিন আহমদের। পোড়খাওয়া অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদ জানালেন অবসরের ভাবনা-ও।

তিনি জানালেন, বর্তমান পজিশনে আসতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আশেপাশে যাদের দেখেন, তাদের তুলনায় তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। অর্জন করেননি কোনো ধন-সম্পদ। সেজন্য নেই দুঃখও। এলাকাবাসী যেভাবে সমর্থন জানিয়েছে, সেটিকে জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার বলে মনে করেন। তবে একসময় তো অবসর নিতেই হবে! আর সেই সময় এসে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

মানে স্পিকারের দায়িত্ব শেষে রাজনীতি থেকে অবসরে যেতে চাচ্ছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।
 

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ