প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে, সেটি আদালতই নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনও রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ ঘোষণা চাই না। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অবশ্য আদালত নির্ধারণ করবে এই আওয়ামী লীগের কী হবে।’
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গণহত্যার জন্য যে দল দায়ী যে দল মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী সেই দায়ী কতটুকু- সেটা তদন্ত হচ্ছে। আইসিটি কোর্টের যে ইনসপেকশনটি তারা তদন্ত করছে আমরা দিয়েছি, শেষ পর্যায়ে আছে। ইনশাআল্লাহ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দল হিসাবে তাদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি জুলাই কার? জুলাই কার? তাহলে জুলাই আমাদের কারোই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।’
বিরোধী দলের নেতার কথার প্রসঙ্গ ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। আসুন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে একসাথে বসি। আপনাদের আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা এখনও নাম দেননি। গতকাল প্রথম বৈঠক করেছি, জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আপনারা বলেছেন গণ-আকাঙ্ক্ষা গণরায় বাস্তবায়ন করা হবে। সেটা কি সংস্কার পরিষদে গেলে হবে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে গেলে হবে না?’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট হচ্ছে একটা সংস্কার। এইভাবে আমাদের বুঝতে হবে। মাঠের রাজনীতি করতে পারবেন, সংস্কার কমিশন করবেন বা জাতীয় সংস্কার পরিষদ করবেন সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ করবেন, দিস ইজ অল ওয়ার্ডিং কিন্তু প্র্যাক্টিক্যাল যেটা আসতে হবে অ্যামেন্ডমেন্ট। সেটা গ্রহণ করতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই ৩৬ কি এমনিতেই হয়েছে? জুলাই দীর্ঘদিনের এক একদিনের বিন্দু বিন্দু জমে আমাদের এই সিন্ধু হয়েছে। এই জুলাই ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিএনপির ছাত্রদলের-যুবদলের অন্যান্য বিরোধী দলের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল কর্মীর আত্মত্যাগে। যখন কোনও আন্দোলন তার নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে দেওয়া হয় না তখনই অপরিহার্য হয়ে যায় সহিংস রক্তাক্ত আন্দোলনের। সেটাই হয়েছে বাংলাদেশে।’
তিনি বলেন, ‘৭১ এর চেতনাকে বিক্রি করতে করতে শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে আছে। আমি অনেকবার বক্তব্য দিয়েছি শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।’
জুলাই সনদ কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন হবে সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের কাছে আমরা মতামত নেব, সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে বসবো, এডিটরদের সাথে বসবো। আমরা এমন একটা সংবিধান সংশোধনী আনতে চাই। যে সংশোধনী নিয়ে আমরা অনেক বছর চলতে পারবো। কারণ বারবার জুলাই আসে না। বারবার একাত্তর আসে না। বারবার বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না। এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমাদের যে অর্জিত আকাঙ্ক্ষা যে প্রত্যাশা এই জাতির সেই প্রত্যাশাকে যদি আমরা পূরণ না করতে পারি, সারাজীবন আমরা দায়ী থাকবো।’