• ঢাকা বুধবার
    ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশ আর কখনও নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

বাংলাদেশ আর কখনও নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বাংলাদেশ আর কখনও কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম বড় অর্জন হলো দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে।’

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’-এর এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব যে বাংলাদেশ যেন কখনওই আবার কোনো পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে ফিরে না যায়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই বছর আগের পরিস্থিতির স্মৃতিচারণা করে বলেন, বিদেশে অবস্থানকালেও শিশু-কিশোরদের প্রাণহানি, সরকারের দমন-পীড়ন এবং দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।’ তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এভাবে তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করা হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম নৃশংস ও অন্ধকার সময়।

তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন সময়ে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বাংলাদেশের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে সহিংসতা কমাতে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতি ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রেখেছিল।

পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সে সময় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটানো—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরাও সাম্প্রতিক নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য বলে মূল্যায়ন করেছেন, যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

কূটনৈতিক সাফল্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে যে হারিয়ে যেতে বসেছিল, তা আবার পুনর্দখল করছে।

মন্ত্রী বলেন, নানা ধরনের বাধা ও সমস্যা থাকলেও আমরা তিনটি লক্ষ্যই অর্জন করতে পেরেছি। নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত উৎসবমুখর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও এটিকে একটি চমৎকার নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমরা যেসব আশঙ্কা করেছিলাম, সেগুলোর কোনোটিই বাস্তবে ঘটেনি। ফলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আন্দোলনের প্রতিটি শহীদ তাদের অসীম সাহস, নির্ভীক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে আমাদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। একই সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের জীবন্ত সাক্ষী হয়ে যারা আমাদের মাঝে রয়েছেন, তাদের প্রতিও আমি গভীর সমবেদনা জানাই।

মন্ত্রী আরও বলেন, তাদের ত্যাগ, সাহস ও অদম্য মনোবল দেশ ও মানুষের কল্যাণে আত্মোৎসর্গের আদর্শে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।

জাতীয় সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ