প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৬, ১০:০০ পিএম
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ২১ মার্চ রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সেই অনুষ্ঠানে একজন বিদেশি কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। জামায়াতে ইসলামী এটিকে হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ বললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এর সমালোচনা করেছেন। আজ বুধবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে সেই আচরণের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াতের আমির।
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ঈদ উপলক্ষে আমরা একটা রিসেপশনের (অভ্যর্থনা) আয়োজন করেছিলাম। বিদেশি কূটনীতিবিদরা এবং আমাদের বন্ধুরা এখানে এসেছিলেন। ঈদের দিনটা মানুষ একটু খোলা মনে সবার সঙ্গে মিশে। আমি একটু মিশেছি। হায়রে আল্লাহ এটা নিয়ে কী যে অবস্থা!’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘নবীজি এইটা করেছেন রে ভাই। তিনি তাঁর প্রিয়তম সাহাবির সঙ্গে এটা করেছেন। এটা তো আমার নবীর প্রিয় সুন্নত। আমি তো আমার নবীর প্রতিটি সুন্নতকে ভালোবাসি। কে কী বলল, না বলল, এগুলোর পাত্তাই আমি দিই না। তুমি বলতেই থাকো, আমি করতেই থাকব।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘মানুষ হিসেবে যদি ভুল করি অনুতপ্ত হব, ক্ষমা চাইব, কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু আমার শুদ্ধ কাজটাকে ভুল হিসেবে চালিয়ে দেবে, আর মনে করবা নিজেই শুধু জ্ঞানী আর সবাই চোখ বন্ধ করে অথবা উটপাখির মতো ঠোঁট বালিতে ঢুকিয়ে বসে আছে, এটা মনে করবা না। দুনিয়া এখন বড় চালাক। তুমি যে রাস্তা দিয়ে হাঁটো, ওই রাস্তা অবজার্ভ করার জন্য তোমার রাস্তায় শত সার্চলাইট বসে আছে।’
সংসদ নির্বাচনের আগে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রামে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেছিলেন, একাত্তর সালে চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল। এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সবার আগে চিৎকার দিয়ে বলেছিলেন ‘উই রিভল্ট’। তিনি জিয়াউর রহমানকে হাতে ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।
তাঁর এই বক্তব্য নিয়েও অনেক আলোচনা–সমালোচনা হয়েছে। এই বক্তব্যের ব্যাখ্যাও আলোচনা সভায় দিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমি বলেছি যে তিনি বিদ্রোহ করেছেন। বেকুবরা বুঝেছে, তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এটা দিয়ে কী যে হইচই।
এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘জানবে না, বুঝবে না, তার আগে চায়ের কাপে ঝড় তুলবে। কেন তুলে জানেন? মূল ইস্যুকে চাপা দেওয়ার জন্য।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির। সঞ্চালক ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
আরও বক্তব্য দেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), মোবারক হোসাইন, কর্মপরিষদ সদস্য জসীমউদ্দিন সরকার, হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য কামাল হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।