প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
‘কত করে কইলাম তোমরা বাড়ি থাকো, আমি যাই; আমার ডিউটি আছে। বউ কইল না তুমি একলা একলা যাইবা। আমার ভালো লাগে না। এখন আমারে ছাইড়া কেমনে একলা রাইখা চইলা গেলা। আমি এখন কী করমু?’ স্ত্রী-সন্তানকে হারিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন দৌলতদিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া বাসটি থেকে সাঁতরে তীরে আসা এক যাত্রী।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় ৩নং পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।
সাঁতরে তীরে আসা ওই যাত্রী বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম ২৯ মার্চ আমার ডিউটি আছে তোমরা বাড়ি থাকো, বউ শুনলো না। বললো, আব্দুল্লার বাপ তোমারে না দেখলে আমার ভালো লাগে না। আমি বাড়ি থাকমু না। তোমারে না দেখলে আমার অস্থির লাগে। এখন আমার কী হবে; কেমনে বাঁচমু?’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই যুবক বলেন, ‘স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে আমি কুষ্টিয়া থেকে বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলাম। হঠাৎ বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় উল্টে নদীতে পড়ে যায়। আমি সাঁতরে কোনো রকম তীরে উঠে আসি।’
এ বিষয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে আমাদের ডুবুরি দল আসছে। তারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে।