প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
পটুয়াখালীর বাউফল সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা নার্সদের গাফিলতির কারণে এক নবজাতক কন্যা শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ৫ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বাউফল পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাব্বির শিকদারের স্ত্রী মোসা. ইতি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত বাউফল সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার কথা থাকলেও হাসপাতালে পৌঁছে তারা গেটে তালা ঝোলানো অবস্থায় দেখতে পান। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকির পর দারোয়ান এসে গেট খুলে দিলে তারা হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করেন।
পরিবারের অভিযোগ, সে সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। সাব্বির শিকদার জানান, তিনি নিজেই ডলি ব্যবহার করে তার স্ত্রীকে হাসপাতালের উপরের তলায় নিয়ে গিয়ে একটি বেডে শুইয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত নার্স শিপলা রানী ও শিরিন সেখানে আসেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ওই দুই নার্স কর্তব্যরত চিকিৎসককে বিষয়টি না জানিয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তারা বলেন, “এত ডাকাডাকি করেন কেন? সারাক্ষণ কি আমাদের ডিউটি করতে হবে? যা হওয়ার হবে, সকালে দেখা যাবে।” অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসককে অবহিত না করেই নার্সরা নিজেরা কিছু ওষুধ লিখে দেন।
সারা রাত প্রসূতি প্রচণ্ড কষ্টে থাকার পর সকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক এসে ডেলিভারি সম্পন্ন করেন। তবে ততক্ষণে জন্ম নেয় মৃত কন্যা সন্তান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্স শিরিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাতে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসককে ফোন দিতে পারেননি, কারণ তার ফোনে ব্যালেন্স ছিল না। নিজে ওষুধ লিখে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় তিনি ওষুধ লিখে দিয়েছেন এবং এসব ওষুধ চিকিৎসকরাও সাধারণত লিখে থাকেন।
অপর অভিযুক্ত নার্স শিপলা রানীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রাতে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ফাতেমা আক্তার জুথির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এই ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমাকে কেউ ফোন দেয়নি। সকালে এসে বিষয়টি জানতে পারি।”
হাসপাতালের ইনচার্জ মিনারা বেগম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর গাফিলতি প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএস) ডা. আব্দুর রব বলেন, ঘটনার তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে কোনো নার্সের গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।