প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওমানে সমাঝোতা বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ ফেব্রয়ারি) মাসকাটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরইমধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা জড়ো হয়েছেন।
তবে বৈঠকে কোনো সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। আর শত্রুপক্ষ যুদ্ধের পথ বেছে নিলে তার জন্যও ইরান প্রস্তুত বলে সাফ জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
এ বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেন, ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা যাতে পুরো অঞ্চলকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে না দেয়, সে চেষ্টাই করছে আঙ্কারা।
এর আগে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে একটি কাঠামোগত প্রস্তাব তুলে ধরে মধ্যস্থতাকারী কাতার, মিশর ও তুরস্ক। আল জাজিরা জানায়, প্রস্তাবিত কাঠামোতে ইরানকে তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, সমৃদ্ধকরণ সীমিত করে ১ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রায় ৪৪০ কেজি তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়াও, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে সীমাবদ্ধতা।
এদিকে আলোচনায় রাজি হলেও দু’দেশের মধ্যে হুঁশিয়ারি-পাল্টা হুঁশিয়ারি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সতর্ক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। খামেনির চিন্তিত থাকা উচিত উল্লেখ করে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তবে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত তেহরান।
হুমকি-ধামকির মধ্যেই উপসাগরীয় জলসীমায় তেলবাহী দু’টি বিদেশি জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড-আইআরজিসি। জ্বালানি পাচারের অভিযোগে জাহাজ দু’টি জব্দ করে তারা। তবে জাহাজ দু’টি কোন দেশের পতাকা বহন করছিল এবং নাবিকরা কোনো দেশের তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে তেলের দাম।