প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির দপ্তর দেশটির নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে নতুন নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এ নিয়োগগুলোকে ইরানের কৌশলগত ও নিরাপত্তা নীতিতে ধারাবাহিকতার বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মোহসেন রেজায়িকে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সেক্রেটারি (প্রধান) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
মোহসেন রেজায়ি ১৬ বছর ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর প্রধান ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তিনি বাহিনীটির কমান্ডার-ইন-চিফের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সামরিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে তাঁকে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ‘যৌথ যুদ্ধ কমান্ড’-এর প্রধান আলী আবদুল্লাহিকে সশস্ত্র বাহিনীর নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আলী ওজমাইকে আইআরজিসির নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কট্টরপন্থী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইআরজিসির নতুন কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁকে মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি মোহাম্মাদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রথম দফার হামলায় পাকপুর নিহত হন বলে জানা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব নিয়োগ ইরানের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। বরং দেশটির বর্তমান কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহকারী অধ্যাপক সিনা আজোদি বলেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অবস্থান নরম হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “খামেনি, ভাহিদি এবং আইআরজিসির নেতৃত্ব মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা কৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয়।”
তিনি আরও বলেন, মোহসেন রেজায়ির দীর্ঘ প্রতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থেকে সাধারণ সদস্যদের মধ্যেও তাঁর যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় এ পরিবর্তন দেশটির ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।