প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এক সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এক সদস্য আমাদের পক্ষ থেকে ওয়াশিং মেশিন দাবি করেছেন। আমি ওয়াশিং মেশিনের নাম শুনেছি, কিন্তু দেখিনি, ব্যবহারও করি নাই। সেই সংসদ সদস্যকে বলবো, আপনার দরকার হলে স্পিকারের কাছে চান। আমার দরকার নেই। তাই সংসদ দিলেও আমি নেব না। আমি চিনি না, ব্যবহারও করতে পারি না। সংসদ সদস্যদের অভাব যদি ওয়াশিং মেশিন হয়, তাহলে দেশের মানুষের অভাবতো অনেক, সেটার দিকে তাকালে বুঝতে পারবেন, এ বাজেট অর্থবহ, বড় বাজেট নয়।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব কথা বলেন।
দেশের মাদকের সবচেয়ে বড় চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকার আশপাশ দিয়ে আসে বলে মন্তব্য করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, আগে শুনতাম বদী, এখনতো বদী নাই, বদীতো ভয় পেয়ে গেছে গা। এখন ওখানকার দায়িত্বটা কে নিয়েছে? বাড়ির আশেপাশের লোক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তো চেনার কথা। এতদিনে ওইদিক দিয়ে মাদক আসা বন্ধ হওয়া উচিত ছিল। আইন দিয়ে কোনো কিছু হয় না, আইন কার্যকর করতে সাহস লাগে, সৎ সাহস লাগে এবং ইচ্ছা লাগে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন মাদকাসক্তি। তার নিজের নির্বাচনী এলাকার একটি হাসপাতালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমার এলাকায় হাসপাতালের সাইনবোর্ড লেখা আছে। আমাদের সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ ভাই উদ্বোধন করেছেন, তার নাম লেখা আছে, আমানউল্লাহ আমান উপস্থিত ছিলেন এমন নামফলক আছে। কিন্তু ১০ শয্যা বিশিষ্ট সেই হাসপাতালটি এখন পুরাই মাদকের আখড়া। সেখানে কোনো রোগী, ডাক্তার ও দারোয়ান নেই। একটা নির্বাচনী এলাকায় ১০ শয্যার হাসপাতাল আছে, এটা নিয়ে কি গর্ব, অহংকার, কত কিছু করে ফেলছি। সেখানে আদমশুমারি অনুযায়ী লোক সংখ্যা ৬ লাখ হলেও বেসরকারিভাবে ১৫ লাখ লোকের বসবাস। অথচ সেখানে যে একটি হাসপাতাল আছে, সেটিও এখন মাদকাসক্ত।
বাজেট ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। সেটা না হলে দুর্নীতির চাপে তলিয়ে যাবে সারা জাতি।