প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। ওই নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে আলোচিত। সোমবার (২৮ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সেই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করার কারণেই তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে, সেটি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন জেলা প্রশাসক ও যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি- তাদের নির্বাচনি অপরাধের কারণে অবসরে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী- চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার কোনো কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো ছাড়াই অবসরে পাঠাতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও সেই বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আপনারা সাংবাদিক হিসেবে দেখেছেন- তারা নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক ছিলেন। সেখান থেকে একটি সম্পর্ক খুঁজে বের করেছেন। কিন্তু সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি- ২০১৮ সালের নির্বাচনের জন্য তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ভরার তথ্য আসতে শুরু করেছিল। রাতের বেলায় ভোট শেষ করে দেওয়ার এমন ঘটনা বিশ্বের নির্বাচন জালিয়াতির ইতিহাসেও বিরল।
তার মতে, ওই নির্বাচনের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত হওয়া জরুরি। সেখানে শুধু ডিসি ও এসপি নন; নির্বাচনি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং অন্যান্য পর্যায়ে যারা নির্বাচনি অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাদের দায়ও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি ২০১৮ সালের নির্বাচনের ঘটনার বিচার না করে, তাহলে সেটি খুব খারাপ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। নির্বাচনি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।
২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়েও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা। ২০০৮ সালের কয়েকটি কেন্দ্রে প্রতি বুথে অস্বাভাবিক দ্রুত ভোট পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।