• ঢাকা বুধবার
    ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও তার পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও তার পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন

সৈয়দ আতিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে পাস হয়েছে। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদেও এটি অনুমোদন পেয়েছিল। যদিও প্রেসিডেন্টের ভেটো দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও এই ভোটাভুটি আমেরিকার গণতান্ত্রিক কাঠামো, যুদ্ধনীতি এবং জনগণের মনোভাব সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও তার পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক সম্পৃক্ততা বহুবার প্রমাণ করেছে যে যুদ্ধের ময়দানে জয়লাভ করলেও রাজনৈতিক ও মানবিক মূল্য অনেক বেশি দিতে হয়। আফগানিস্তান, ইরাক কিংবা লিবিয়ার অভিজ্ঞতা এখনও বিশ্ববাসীর স্মৃতিতে তাজা। ফলে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।

সিনেটের এই ভোটে রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সদস্য নিজ দলের প্রেসিডেন্টের অবস্থানের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। এটি শুধু রাজনৈতিক সাহসিকতার পরিচয় নয়; বরং জনগণের উদ্বেগের প্রতিফলনও বটে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৪ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। অর্থাৎ অধিকাংশ নাগরিক মনে করছেন, সংঘাত নয় বরং কূটনৈতিক সমাধানই হওয়া উচিত বর্তমান সংকটের পথ।

যুদ্ধ কখনো শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত হবে, জ্বালানির দাম বাড়বে এবং নতুন মানবিক সংকটের জন্ম হবে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক অভিযান পরিচালনার প্রশ্নে কংগ্রেসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুদ্ধের সিদ্ধান্ত কেবল একজন নেতার ব্যক্তিগত বিবেচনার ওপর নির্ভর করতে পারে না। জনগণের প্রতিনিধিদের মতামত ও অনুমোদন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। সিনেটের এই অবস্থান সেই সাংবিধানিক ভারসাম্যের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

বিশ্ব আজ নতুন কোনো যুদ্ধ নয়, বরং নতুন শান্তির প্রত্যাশা করে। শক্তির প্রদর্শন সাময়িক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে, কিন্তু স্থায়ী শান্তি এনে দিতে পারে না। কূটনীতি, সংলাপ এবং পারস্পরিক সম্মানই পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করতে।

মার্কিন সিনেটের এই বার্তা তাই শুধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি নয়; এটি সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। যুদ্ধের আগুন যত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, শান্তির আলো জ্বালাতে তত বেশি সময় লাগে। সেই আলো জ্বালানোর দায়িত্ব আজ বিশ্বনেতাদেরই নিতে হবে। 

 

মতামত সম্পর্কিত আরও

আর্কাইভ